ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

শেষের রোমাঞ্চে মুখে বিজয়ের হাসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১২, ২৮ মে ২০২৪  
শেষের রোমাঞ্চে মুখে বিজয়ের হাসি

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই ব্যাট-বলের হাড্ডাহাড্ডি এক লড়াই। রোমাঞ্চকর শেষের অপেক্ষা। নখ কামড়ানো প্রতিটি মুহূর্ত। প্রতিটি মুহূর্তে এখানে রং পাল্টায়। প্রতিটি বলে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। কখনো এগিয়ে যান ব্যাটসম্যানরা। কখনো বোলাররা। এখানে বাজির দর পাল্টে যায় মুহূর্তে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে তখন আবারো ঘুরে ফিরে আসছে এমন কিছু ম্যাচের স্মৃতি যা কল্পনাকেও যেন হার মানায়।

শেষ মুহূর্তে গিয়ে এমন কিছু ম্যাচ ব্যাটসম্যানরা জিতিয়েছে যা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। শেষ বলে হয়েছে ম্যাচের সমাধান। ব্যাটসম্যানরা হেসেছেন বিজয়ের হাসি। সেসব শেষের রোমাঞ্চের ম্যাচের স্মৃতি আরেকবার মনে করা যাক। শেষ বিশ্বকাপ দিয়েই শুরু করা যাক।

পাকিস্তান ও ভারতীয় দলের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। হারিস রউফকে মারা বিরাট কোহলির দুই ছক্কা! ম্যাচটা শেষ হয়েছিল রবিচন্দ্রন অশ্বিনের শেষ চারে। কিন্তু বিরাটের আগের ওভারে হাঁকানো দুই ছক্কা ম্যাচের খোলনলচে পাল্টে দেয়। আগে ব্যাটিং করে পাকিস্তান ভারতকে ১৬০ রানের টার্গেট দেয়। কিন্তু ভারতের টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচটা একটা সময়ে পাকিস্তানের দিকে চলে যায়। কিন্তু ওখানে বিরাট কোহলি ৫৩ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতান।

শেষ ৮ বলে ভারতের দরকার ছিল ২৮ রান। বিরাট ১৯তম ওভারের শেষ দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকান। পরের ওভারে যখন শেষ ৩ বলে ১৩ রান লাগত তখন বিরাট আরেকটি ছক্কা হাঁকান। সঙ্গে নো বলে বাড়তি আরো ১ রান পায় ভারত। পরের ফ্রি হিটে ভারত ৪ রান আদায় করে নিলে খেলা ঘুরে যায়। শেষ বলে অশ্বিন মিড উইকেট দিয়ে চার হাঁকিয়ে ভারতকে জয় এনে দেন। মেলবোর্নের ওই মাঠে প্রায় ৯০ হাজার দর্শক খেলে দেখেছিলেন। ম্যাচটা জিতে বিরাট পুরো স্টেডিয়ামকে অবাক করে দেন।  

২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের কথা মনে থাকার কথা। যেখানে স্বাগতিক ইংল্যান্ড প্রথম ম্যাচেই হেরে যায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। ইংল্যান্ডের দেওয়া ১৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডসের শেষ ৬ বলে ৭ রান দরকার ছিল। ডাচরা কোনো বাউন্ডারি পায়নি। কিন্তু ম্যাচটা জিতে নেয় সহজে। শেষ বলে যখন ১ রান দরকার ছিল তখন ব্রড দারুণ এক ইয়র্কার দেন। ব্যাটসম্যান ব্যাটে বল ছুঁইয়ে রানের জন্য দৌড় দেন। ব্রড স্টাম্প ভাঙতে গিয়ে ওভার থ্রোতে দিয়ে দেন আরো ১ রান। তাতেই ডাচরা পেয়ে যায় ঐতিহাসিক জয়।

পরের বছর ভারতকে অবাক করে দেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান চামারা কাপুগেদারা। শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ বলে ৩৭ রান করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তবে তিনি কারিশমা দেখান শেষ ওভারের শেষ বলে। ভারতের দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার শেষ বলে দরকার ছিল ৩ রান। কাপুগেদারা ডাউন দ্য উইকেটে এসে আশিষ নেহরাকে কাভারের ওপর দিয়ে হাঁকান বিশাল এক ছক্কা। তাতে সেন্ট লুসিয়া স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার অন্যরকম এক বিজয় লেখা হয়ে যায়।

শুধু বড় দলগুলো নয়, র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলগুলোও বিশ্বকাপে রোমাঞ্চ উপহার দিয়েছে। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বসেছিল বাংলাদেশে। সিলেটে প্রথম পর্বের খেলাতে ছড়িয়েছিল উন্মাদনা। আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছিল শেষ বলে। সরাসরি থ্রোতে রান আউটের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে ম্যাচ হেরেছিল জিম্বাবুয়ে।

১৬৪ রানের তাড়ায় শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দরকার ছিল আয়ারল্যান্ডের। কিন্তু জিম্বাবুয়ের পেসার পানিয়াঙ্গারার তোপে প্রথম দুই বলে ২ রানের পর তৃতীয় ও চতুর্থ বলে উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। ফলে শেষ ২ বলে ২ রান দরকার ছিল তাদের। পঞ্চম বলে আয়ারল্যান্ড ১ রান পায় ঠিকঠাক। কিন্তু শেষ বলে লেগ বাই থেকে আসে জয়ের রান। ক্লোজ ইন ফিল্ডিং সাজিয়েও লেগ বাইয়ের রান আটকাতে পারেনি জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা।

অবশ্য তারাও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অসাধারণ এক জয় তুলে নেয় ওই সিলেটেই। শেষ বলে যখন জয়ের জন্য ১ রান লাগত, তখন ভুসিমুজি সিবান্দা বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। বিশ্বকাপের নবম আসর কিছুদিন পরই শুরু হবে। এবারও এমন রোমাঞ্চ ছড়াবে, উত্তেজনা থাকবে এমনটাই আশা করাই যায়। 

ঢাকা/ইয়াসিন/বিজয়

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়