মুশফিকের ব্যাটে গ্রুপ পর্বে রাজশাহীর রাজকীয় সমাপ্তি
প্লে-অফের টিকিট আগেই পকেটে ছিল দুই দলের। কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হওয়াটাও ছিল নিশ্চিত। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ শনিবারের লড়াইটা ছিল মূলত পয়েন্ট টেবিলের শ্রেষ্ঠত্ব বা ‘নাম্বার ওয়ান’ হওয়ার। সেই স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেই গ্রুপ পর্ব শেষ করল মুশফিকুর রহিমের রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তানজিম হাসান সাকিবের বোলিং তোপের মুখে পড়ে বিসিবির মালিকানাধীন দল চট্টগ্রাম রয়্যালস। সাকিবের আগুনের গোলার মতো একেকটি ডেলিভারি কুপোকাত করেছে চট্টগ্রামের টপ অর্ডারকে। মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন এই পেসার। পাকিস্তানি হার্ডহিটার আসিফ আলি ৪টি ছক্কায় ২৪ বলে ৩৯ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস না খেললে চট্টগ্রামের স্কোর একশ ছোঁয়াই কঠিন হতো। আসিফ ছাড়া আর কেউ ২০ রানের কোটা পার করতে না পারায় মাত্র ১২৫ রানেই থমকে যায় চট্টগ্রামের ইনিংস।
১২৬ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে রাজশাহীকে। অল্প পুঁজি নিয়েও দারুণ লড়াই চালিয়েছে চট্টগ্রামের বোলাররা। তবে যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী এবং অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ব্যাটিং রাজশাহীকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।
আকবর আলী আজ ক্যারিয়ারের প্রথম বিপিএল ফিফটির খুব কাছে গিয়েও আক্ষেপে পুড়েছেন; ৪০ বলে ৪৮ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। তবে অন্য প্রান্ত আগলে রেখে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন মুশফিক। তিনি ৪২ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচের ৩ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটের এই জয় নিশ্চিত করে রাজশাহী।
এই জয়ের ফলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স পুরো ১০ ম্যাচ থেকে ১৬ টেবিলের এক নম্বর দল হিসেবে কোয়ালিফায়ারে পা রাখল। অন্যদিকে হারলেও দ্বিতীয় স্থানে থেকে প্লে-অফে লড়াই করবে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ৯ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। অর্থাৎ, ফাইনালে ওঠার প্রথম লড়াইয়ে এই দুই দল আবারও একে অপরের মুখোমুখি হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১২৫/১০ (আসিফ আলি ৩৯; তানজিম সাকিব ৪/১৭)
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ১২৯/৭ (মুশফিক ৪৮*, আকবর ৪৮; ৩ উইকেটে জয়ী)
ফল: রাজশাহী ৩ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: আকবর আলী (৪৮ রান ও ২ ক্যাচ)।
ঢাকা/আমিনুল