ক্ষুব্ধ বার্নাব্যুতে রিয়ালের স্বস্তির জয়
সংকট, সমালোচনা আর উত্তপ্ত পরিবেশ। সবকিছুর মাঝেই মাঠে নামতে হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদকে। আর সেই রাগে ফুঁসতে থাকা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই শেষ পর্যন্ত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল লস ব্লাঙ্কোসরা। শনিবার (১৭ জানুয়ারি, ২০২৬) কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে ভর করে লেভান্তেকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে লা লিগায় গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে রিয়াল।
এই ম্যাচটি ছিল নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। বার্সেলোনার কাছে স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালে হারের পর আকস্মিকভাবে দায়িত্ব ছাড়েন জাভি আলোনসো। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে আরবেলোয়া দায়িত্ব নেওয়ার পরই সমর্থকদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল একেবারেই উল্টো।
কোপা দেল রে থেকে দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব আলবাসেতের কাছে বিদায় নেওয়ার ক্ষোভ তখনও টাটকা। ফলে নিজেদের মাঠেই রিয়ালের খেলোয়াড়দের কানে ভেসে আসে দুয়োধ্বনি। বিরতিতে মাঠ ছাড়ার সময় অনেক সমর্থক সাদা রুমাল নেড়ে প্রতিবাদ জানান। এমনকি ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজও সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পাননি।
চাপে থাকা ম্যাচে প্রথমার্ধে গোলশূন্য অবস্থায় আটকে ছিল রিয়াল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে এসে দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন এমবাপ্পে। ৫৭ মিনিটে লেভান্তের ডিফেন্ডার আদ্রিয়ান দে লা ফুয়েন্তের ফাউলে বক্সে পড়ে যান ফরাসি তারকা। নিজেই স্পট কিক নিয়ে ম্যাথু রায়ানকে ভুল পথে পাঠিয়ে গোল করেন এমবাপ্পে। এটি ছিল চলতি মৌসুমে তার ক্লাব ক্যারিয়ারের ৩০তম গোল।
এই গোল যেন রিয়ালের বুকের ওপর থেকে ভার নামিয়ে দেয়। মাত্র আট মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল আসেনসিও। আর্দা গুলারের আউটসুইং কর্নার থেকে বুলেট হেডারে জাল কাঁপান তিনি। তাতে বার্নাব্যুতে কিছুটা হলেও প্রশান্তি ফেরে।
এরপর ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত রিয়াল। জুড বেলিংহ্যামের হেডার দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন লেভান্ত গোলরক্ষক রায়ান। শেষ দিকে ফ্রাঙ্কো মাসতান্তুয়োনোর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবু জয় আর হাতছাড়া হয়নি।
এই জয় লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে রিয়ালকে আবারও প্রাসঙ্গিক করে রাখল। বার্সেলোনার থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা। রোববার রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠে খেলতে যাবে কাতালানরা।
ঢাকা/আমিনুল