ঢাকা     রোববার   ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি, ইউরোপের কড়া প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৫৭, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০৮:৫৯, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি, ইউরোপের কড়া প্রতিক্রিয়া

শনিবার গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে

গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় আটটি মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন।

ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। পরে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে এবং কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

এদিকে, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডকে ‘সহজ উপায়ে’ বা ‘কঠিন উপায়ে’ নিজেদের করে নেবে।

ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। তারা বলছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর যৌথ দায়িত্ব হওয়া উচিত।

ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য গ্রিনল্যান্ডে ‘রেকি মিশন’এর অংশ হিসেবে কিছু সেনা পাঠিয়েছে।

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলা খেলছে। তার ভাষায়, বিষয়টি “আমাদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত।”

তিনি জানান, আগামী মাসে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে, যা জুনে বেড়ে ২৫ শতাংশে দাঁড়াবে এবং গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্রয়সংক্রান্ত একটি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা পরিশোধযোগ্য থাকবে।

এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “ন্যাটোর সম্মিলিত নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করার জন্য মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ সম্পূর্ণ ভুল। আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করব।” 

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, “এই প্রেক্ষাপটে শুল্কের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়… কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।”

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, “আমরা ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করব না।”

তিনি আরো বলেন, “যৌথ প্রতিক্রিয়া নির্ধারণে সুইডেন বর্তমানে অন্যান্য ইইউ দেশ, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে।”

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় সবসময় কঠোর থাকবে—যার শুরু অবশ্যই ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড থেকে।”

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, “এই হুমকি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত।” 

ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া ওই চুক্তিতে ইইউ পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং কিছু মার্কিন পণ্যে ইইউর শুল্ক শূন্য করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়েবার বলেন, “ইইউ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে ইপিপি থাকলেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির কারণে এই মুহূর্তে অনুমোদন সম্ভব নয়।”

তিনি আরো বলেন, “মার্কিন পণ্যের ওপর শূন্য শতাংশ শুল্ক স্থগিত রাখতে হবে।”

ঢাকা/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়