ঢাকা     শনিবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

টসের সময় হাত মেলাননি বাংলাদেশ ও ভারতের অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৮, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৬:২১, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
টসের সময় হাত মেলাননি বাংলাদেশ ও ভারতের অধিনায়ক

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের আগে মাঠের ক্রিকেটীয় আলোচনার চেয়েও বেশি নজর কাড়ল একটি অস্বস্তিকর মুহূর্ত। জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েওর কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এ’ এর এই ম্যাচের টসে দুই দলের অধিনায়ক একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেননি। যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

টসের সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে এবং বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অধিনায়ক মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম তামিম টসে উপস্থিত থাকতে না পারায় তার পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করেন জাওয়াদ। বাংলাদেশ টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও, টসের সময় দুই অধিনায়কই একে অপরের দিকে তাকানো তো দূরের কথা, করমর্দনও করেননি। যা পুরো পরিবেশকে করে তোলে বেশ বিব্রতকর।

আরো পড়ুন:

অস্বস্তি থেমে থাকেনি টসেই। কিছুক্ষণ পর জাতীয় সংগীতের সময়ও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো সৌজন্য বিনিময় বা হাত মেলানোর দৃশ্য দেখা যায়নি। মাঠের সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা দুই দলের ক্রিকেটারদের আচরণ স্পষ্ট করে দেয়, ম্যাচের বাইরের টানাপোড়েন মাঠেও ছায়া ফেলেছে।

কেন হাত মেলালেন না আয়ুষ মাত্রে?
ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রের করমর্দন এড়িয়ে যাওয়ার পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি আইপিএল ২০২৬–এর জন্য মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নেওয়ার পর বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশি পেসারকে ভারতে খেলার বিরোধিতা করে নানা মহল থেকে আপত্তি ওঠে। বিশেষ করে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

এ প্রসঙ্গে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া একপর্যায়ে জানান, কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ পক্ষ থেকে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জেরে বিশ্বকাপে ভারত ও বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু নিয়েও বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়।

মাঠের বাইরে রাজনীতি, মাঠে ক্রিকেট:
এই প্রেক্ষাপটে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ম্যাচে করমর্দন না হওয়াকে অনেকেই দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের প্রতীকী প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সৌজন্যবোধের অনুপস্থিতি নয়, বরং কূটনৈতিক শীতলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

তবে সব বিতর্কের মাঝেও ম্যাচ শুরু হওয়ার পর মাঠের ভেতরে দুই দলই পেশাদারিত্ব বজায় রাখে। খেলোয়াড়রা নিজেদের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেন এবং ক্রিকেটীয় শৃঙ্খলা মেনে ম্যাচ চালিয়ে যান।

টসের সেই ক্ষণিক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তটি দিনের আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও, এটি আবারও মনে করিয়ে দেয়- খেলা মাঠে হলেও, মাঠের বাইরের বাস্তবতা কখনো কখনো তরুণদের ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়