তিন সেঞ্চুরি হাতছাড়া, বিসিএলের শিরোপা সেন্ট্রাল জোনের
১৯, ৬ ও ১৪—তিন রাউন্ডে এমন হতাশাজনক স্কোরে সাইফ হাসানের ব্যাট যেন একদমই কথা বলছিল না বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে। অন্যদিকে নাঈম শেখ ছিলেন ঠিক উল্টো সুরে—৬৯, ৮৩ ও ১০ রানের ইনিংসে ধরে রেখেছিলেন ধারাবাহিকতা। বিসিবি সেন্ট্রাল জোনের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান যেন চলছিলেন দুই বিপরীত মেরুতে।
তবে ফাইনালে এসে মিলল সেই দুই স্রোত। নাঈম ধরে রাখলেন নিজের ফর্ম, আর সাইফ উড়ালেন আত্মবিশ্বাসের পতাকা। দুজনের দারুণ মেলবন্ধনেই সেন্ট্রাল জোনের ধরা দিল বিসিএলের ওয়ানডে আসরের শিরোপা।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিবারাত্রির ফাইনালে আগে ব্যাট করে বিসিবি নর্থ জোন সবকটি উইকেট হারিয়ে তোলে ২৩৮ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৭১ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় সেন্ট্রাল জোন।
নিরুত্তাপ ফাইনালে তেমন রান হয়নি। অথচ লিগ পর্বের ম্যাচগুলোতে বগুড়া ও রাজশাহীতে বড় রান করেছিলেন ব্যাটসম্যানরা।
এদিন তিন সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল। কিন্তু হতাশা বাড়িয়েছেন সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি যাওয়া ব্যাটসম্যানরা। প্রথমে তাওহীদ হৃদয়। বিসিবি নর্থ জোনের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান তাওহীদ ৯৬ রানে আউট হন। লক্ষ্য তাড়ায় নাঈম ও সাইফ দারুণ জবাব দেন। দুজনই সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান। কিন্তু প্রথমে নাঈম ৭৮ রানে ও পরে সাইফ ৮৭ রানে উইকেট বিলিয়ে আসেন।
তবে তাদের ১৬৪ রানের জুটিতে সেন্ট্রাল জোন জয়ের ভিত পেয়ে যায়। বাকিরা বাকি কাজ সারেন। নাঈম ৮৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৮ রান করেন। সাইফ ৭ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৮৭ রান।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে বিসিবি নর্থ জোন ৩৪ রানে ২ ওপেনারকে হারায়। হাবিবুর রহমান সোহানকে (৫) তাসকিন উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করান। রিপনকে তুলে মারতে গিয়ে বৃত্তের ভেতরে সহজ ক্যাচ দেন ২৩ রান করা তানজিদ। বিপদ ডেকে আনেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সাইফ হাসানকে উইকেট বিলিয়ে আসেন ৩৫ রান করে। এরপর হুট করে তাদের ব্যাটিং অর্ডারে হোঁচট। মেহরব হাসান ২৮ ও আকবর আলী শূন্য রানে বিদায় নিলে চাপে পড়ে তারা।
ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার এই মিছিলে তাওহীদ হৃদয় নিজের সাবলীল খেলা খেলেছেন। কোন বোলারই তার সামনে বাধা হতে পারেনি। ৬৯ বলে তুলে নেন ফিফটি। তাকে ষষ্ঠ উইকেটে সঙ্গ দেন সাব্বির রহমান। ধীর গতিতে এগিয়েছে তার ইনিংস। অন্যদিকে তাওহীদ তা পুষিয়ে দিয়েছেন। দুজন ৬৩ রান যোগ করেন এই জুটিতে।
সাব্বির আগ্রাসী মনোভাব দেখাতে গিয়ে বড় খেলার চেষ্টা করেন। তাতে খুব একটা সফল হতে পারেননি। রিপন মন্ডলকে উড়াতে গিয়ে ডিপ কাভারে সাইফের দুর্দান্ত ক্যাচে থেমে যায় তার ইনিংস। ৪৩ বলে ২ চারে ২৪ রান করেন তিনি।
সেখান থেকে শুরু হয় তাওহীদের একার লড়াই। ডানহাতি ব্যাটসম্যান যতদূর যাবেন ততই হবে নর্থ জোনের পুঁজি। তাকে একপ্রান্তে রেখে রিশাদ (১৬), সাকলয়েন (২) ও শরিফুল (২) সাজঘরে ফেরেন। ফিফটির পর তাওহীদ এগিয়ে যান সেঞ্চুরির দিকে। ঢুকে যান নাইন্টিজেও। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে শেষটা রাঙানো হয়নি তার।
নাহিদ রানাকে নিয়ে ব্যাটিং করলেও নিজের কাছে স্ট্রাইক রাখতে হয়েছিল তার। ফলে বড় শট খেলার বাড়তি চাপ ছিল। সেই চাপ নিতে গিয়েই রিপনের বলে ৯৬ রানে এলবিডব্লিউ হন। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৯৮ বলে ইনিংসটি সাজান।
বোলিংয়ে সেন্ট্রাল জোনের হয়ে ৪১ রানে ৪ উইকেট নেন পেসার রিপন মন্ডল। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও রাকিবুল হাসান। ৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১২ রানে ১ উইকেট নেন সাইফ।
বোলিংয়ে ১ উইকেট, ফিল্ডিংয়ে ২ ক্যাচ ও ব্যাটিংয়ে ৮৭ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাইফ হাসান।
ঢাকা/ইয়াসিন