সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরিতে, হাসানের ঝড়ের পর তাওহীদ দেখালেন কারিশমা
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
বিপিএলে এর আগে এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি হয়েছে। আবার দুই ইনিংসে দুই সেঞ্চুরিও হয়েছে। নতুন কিছু নয়। বিপিএলের দ্বাদশ আসরে এমন কিছুর দেখা মেলেনি।
রোববার রাউন্ড রবিন লিগের শেষ দিনে জোড়া সেঞ্চুরির ঘটনা ঘটল। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হাসান ইসাখিলের সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরিতে দিয়েছেন রংপুর রাইডার্সের তাওহীদ হৃদয়। ঝড়ো ব্যাটিং করেছেন দুই ব্যাটসশ্যানই। তবে দিন শেষে হাসিটা টিকিয়ে রাখতে পারেননি হাসান। তার দল নোয়াখালী হেরেছে বিশাল ব্যবধানে।
মিরপুর শের-ই-বাংলায় আগে ব্যাটিং করতে নেমে নোয়াখালী হাসানের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২ উইকেটে ১৭৩ রান করে। জবাব দিতে নেমে রংপুর ১৯.৪ ওভারে জয় নিশ্চিত করে ৮ উইকেট হাতে রেখে। এ জয়ে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে উঠে লিগ শেষ করলো রংপুর। তারা দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলবে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে।
পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে উঠে লিগ শেষ করতে হলে রংপুরকে এই ম্যাচ জিততে হতো ৭.১ ওভারে। যা ক্রিকেটে একেবারেই অসম্ভব। ওই সুযোগটি নেয়নি তারা। স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে তাদের রান ছুট। উদ্বোধনী জুটিতে ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয় ৭৮ রানের জুটি গড়েন। যেখানে দর্শক হয়েই ছিলেন মালান। ১৭ বলে মাত্র ১৫ রান করেন ইংলিশ ক্রিকেটার। তাওহীদ আগ্রাসী ক্রিকেটে মাঠ মাতিয়ে রাখেন। ২৭ বলে পৌঁছে যান ফিফটিতে।
তিনে নেমে লিটন ইনিংসের শুরুতে মেহেদী হাসান রানার হাতে জীবন পান। এরপর মন্থর গতিতে এগিয়েছে তার ইনিংস। আরেক প্রান্তে তাওহীদ বোলারদের কড়া শাসন করায় রান তাড়ায় তেমন প্রভাব পড়েনি। এর আগে রাজশাহীর বিপক্ষে ৯৭ রানে অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তাওহীদ। আজ সেঞ্চুরির অপেক্ষা ফুরিয়েছেন। টি-টোয়েন্টিতে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ৫৭ বলে। ১৪ চার ও ২ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। উদযাপনও করেছেন দেখার মতো।
দৌড়ে ২ রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূরণের পর ব্যাট ঝেরে উদযাপন করেন। এরপর হেলমেট খুলে মাঠে সিজদাহ দেন। ইনিংস শেষ করে আসতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের স্লোয়ার উড়াতে গিয়ে বোল্ড হন ১০৯ রানে। লিটন অবশ্য ম্যাচ শেষ করে আসেন। ৩৫ বলে ৩৯ রান করেন ২ চার ও ১ ছক্কায়।
এর আগে নোয়াখালীর ইনিংস টেনে তোলেন মোহাম্মদ নবীর ছেলে ইসাখিল। প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করে হাসান যা করলেন তা রীতিমত চমকে উঠার মতোই। সিলেটে নিজের প্রথম অভিষেক ইনিংসে সবাইকে চমকে দিয়ে ৬০ বলে ৯২ রান করেছিলেন। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন।
রোববার ঢাকায় সেঞ্চুরির অপেক্ষা ফুরালেন ইসাখিল। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ইনিংসের শেষ দিকে ঝড় তুলে তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ইনিংস ওপেন করতে এসে আঁটসাঁট ছিল শুরুর ব্যাটিং। থিতু হতে সময় নিয়েছিলেন। প্রথম ৮ বলে তার রান ছিল কেবল ১।
তৃতীয় ওভারে নাহিদ রানাকে ছক্কা ও চার মেরে আত্মবিশ্বাস পান। এক ওভার পর ফাহিম আশরাফকে ছক্কা উড়ান মিড উইকেট দিয়ে। তবুও প্রত্যাশিত রান পাচ্ছিলেন না তিনি। ডট বলের সংখ্যা বাড়ছিল। স্ট্রাইক রোটেটে হচ্ছিল সমস্যা। তাতে ফিফটিতে পৌঁছতে ৫০ বল লেগে যায় তার।
কিন্তু মাইলফলকে পৌঁছানোর পর তাকে আর আটকানো যায়নি। পরের ২০ বলের ৭টি বাউন্ডারি উড়িয়েছেন। যার ৬টিই ছিল ছক্কা। ১টি কেবল চার। নার্ভাস নাইন্টিজে একেবারে বিচলিত হননি তিনি। ৮৮ রান থেকে আকিফ জাভেদকে ছক্কা উড়ান তিনি। পরের বল আবারও ছক্কা। প্রথমটি ছিল ডিপ পয়েন্ট দিয়ে। পরেরটি মিড উইকেটে।
সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ২ রান নিয়ে। অনসাইডে আলতো বল ঠেলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। সব মিলিয়ে ৭২ বলে ৪ চার ও ১১ ছক্কায় ১০৭ রান করেন ইসাখিল। ৩৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে নোয়াখালীর হাল ধরেন হায়দার ও ইসাখিল। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত দাপট ধরে রেখে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান তারা। ৭৪ বলে ১৩৭ রানের জুটি গড়েন দুজন। যা এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। শান্ত ও ওয়াসিমের ১৪২ রানের জুটি আছে রংপুরের বিপক্ষে। নোয়াখালীর অধিনায়ক হায়দার ৩২ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩ চার ও ১টি ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকে।
হাসান ইসাখিলের সেঞ্চুরি ম্লান হয়েছে তাওহীদের সেঞ্চুরিতে। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও পেয়েছেন তাওহীদ।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল