ঢাকা     সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৪ ১৪৩২ || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মার্লিন বাইবোলা স্পিন মেশিনে বদলাবে কি বাংলাদেশের স্পিন খেলার চিত্র?

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ৬ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৬:৫৬, ৬ এপ্রিল ২০২৬
মার্লিন বাইবোলা স্পিন মেশিনে বদলাবে কি বাংলাদেশের স্পিন খেলার চিত্র?

শামীম হোমেন পাটোয়ারী ও আফিফ হোসেনকেই প্রথম পরীক্ষা দিতে হলো। মিরপুরের একাডেমি মাঠ থেকে সরে গেছে শেড। ওখানে এখন অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ। সেখানেই বসানো হয়েছে ইংল্যান্ড থেকে আনা আধুনিক স্পিন বোলিং মেশিন ‘মার্লিন বাইবোলা।’

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্পিন বোলিং মেশিন ব্যবহার শুরু করেছে বিসিবি। ইংল্যান্ড থেকে আনা এই বিশেষ মেশিনটি সোমবার মিরপুরে দেখা যায়। শামীম ও আফিফকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে এই মেশিনের সামনে।

আরো পড়ুন:

শুরুতে এই মেশিনের পরিচালনা করেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের সিনিয়র ম‌্যানেজার শাহরিয়ার নাফিস। এরপর তার দেখানো প্রক্রিয়াতেই বল ছুঁড়েছেন বিসিবির গ্রাউন্ডস বিভাগের একজন। এ সময় পাশে ছিলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। প্রধান সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ছিলেন ব‌্যাটসম‌্যানদের সঙ্গে।

বাংলাদেশে বোলিং মেশিন বলতেই শোনা যেত বোলা পেস বোলিং মেশিন। ইংল‌্যান্ডের প্রস্তুতকৃত এই মেশিন বাংলাদেশের ক্রিকেটে যুক্ত হয়েছে অনেক আগের থেকেই। সব বয়সী ক্রিকেটাররা এই মেশিনের সুবিধা পেয়ে থাকে। বলা হয়, বোলা বোলিং মেশিনগুলো নির্ভুলতা ও বহুমুখী ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত সমাদৃত। এই মেশিনগুলো বিভিন্ন ধরনের বোলিং স্টাইল ও গতি অনুকরণ করতে পারে, ফলে খেলোয়াড়রা আরও নিখুঁতভাবে অনুশীলন করে নিজেদের দক্ষতা শাণিত করার সুযোগ পায়।
তাদেরই কোম্পানির মার্লিন বাইবোলা বিশেষায়িত স্পিন বোলিং মেশিন। বিসিবি প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ করে একটি মেশিন বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে। যে প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাফিস। সোমবার তিনি মিরপুরে বলেছেন, ‘‘এই বোলিং মেশিনটার নাম মার্লিন বাইবোলা। এটা নিয়ে অনেকদিন ধরেই কথা হচ্ছিল। কিছুদিন আগেই অর্ডার করা হয়। মেশিনটা অনেক ভারী হওয়ায় ফ্লাইটের মাধ্যমে না এনে জাহাজের মাধ্যমে আনা হয়েছে।’’

বোলিং মেশিনের বিশেষত্ব জানাতে গিয়ে নাফিস যোগ করেন, ‘‘এটা দিয়ে অফস্পিন, লেগস্পিন এবং আর্মার-তিন ধরনের বল খেলা যায়। বলের লেন্থ পরিবর্তন করা যায়, পেস বাড়ানো-কমানো যায়। এটা ম্যানুয়ালি বা অটোমেটিক, দুই মোডেই চালানো যায়। অটোমেটিক মোডে একসঙ্গে ২৫-৩০টা বল খেলা যায়।’’

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান কোচ স্টিভ রোডস এই মেশিনের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘‘মার্লিনের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে ব‌্যাটসম‌্যানরা স্পিনারের কবজি বা আঙুল থেকে কোনো ধরনের ইঙ্গিত পায় না। ফলে তাদের বলের স্পিন বা ঘূর্ণন খুব কাছ থেকে মনোযোগ দিয়ে দেখতে হয়।”

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মার্লিন বোলা সঠিক আকারের যেকোনো ধরনের বলই ডেলিভারি করতে সক্ষম, তবে লেদার ক্রিকেট বল ব্যবহার করলে এটি সবচেয়ে কার্যকরভাবে পারফর্ম করে। নতুন কিংবা পুরোনো বলে আহামরি কোনো পরিবর্ত নেই। পরিস্থিতি বুঝে এটা সহজেই ব‌্যবহার যোগ‌্য। 

পৃথিবীর বড় বড় ব‌্যাটাসম‌্যান যারা স্পিন ভালো খেলেন তারা বোলারের কবজি, অ‌্যাকশন, নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। বলের ওপর শেষ পর্যন্ত চোখ রেখে নিজের শট নির্বাচন করেন। এখানে মার্লিন বোলার কিছুটা ফাঁক রয়েছে। মেশিনে থেকে বল পাওয়ায় স্পিনারের কবজি, রিস্ট কিংবা আঙুলের কোনো ইঙ্গিত পাবে না। যা শট নির্বাচনে খানিকটা হলেও দ্বিধায় ফেলতে পারে ব‌্যাটসম‌্যানদের।

তবে ভালো দিক হচ্ছে, মেশিনে আগে থেকেই নির্ধারণ করে দেওয়া থাকবে, বল অফ স্পিন হবে নাকি লেগ স্পিন। বল বাঁহাতি স্পিনার করবেন নাকি ডানহাতি। তাতে ব‌্যাটসম‌্যানরা কিছুটা হলেও নির্ভার থাকতে পারবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশেষ করে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের মতো দেশে এই ধরনের মেশিন বেশ জনপ্রিয়, যেখানে মানসম্মত স্পিনারের অভাব পূরণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে দিন শেষে তারা মেশিনের স্পিন থেকে স্পিনারদের বোলিং খেলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বাংলাদেশের জন‌্য এই মেশিন কতটা কার্যকরী হয় তা সময়ই বলে দেবে।

নিউ জিল‌্যান্ডকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন‌্য বাংলাদেশ লম্বা সময় ধরে অনুশীলন করছে। পরিকল্পনা মাফিক অনুশীলন করায় তীব্র গরমেও ক্রিকেটাররা মানিয়ে নিয়েছেন বলে মত দিলেন শাহরিয়ার নাফিস, ‘‘এখন পর্যন্ত আমরা বেশ একটা বড় সময় পেয়েছি অনুশীলন করার। অনুশীলনের যে ভলিউম এবং যেভাবে এটা সাজানো হয়েছে তা খুবই সমৃদ্ধ এখন পর্যন্ত খেলোয়াড়রা অনেক কষ্ট করছে এবং ভালো অনুশীলনও হচ্ছে। আশা করি এটা নিউ জিল্যান্ড সিরিজ আগ পর্যন্ত ধারাবাহিক থাকবে। একটু গরম কিন্তু খেলোয়াড়রা খুব দ্রুত অ্যাডজাস্ট করে নিচ্ছে।’’

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়