ঢাকা     সোমবার   ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৭ ১৪৩৩ || ২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

দহন দিনের নাহিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪২, ২০ এপ্রিল ২০২৬  
দহন দিনের নাহিদ

কড়া রোদের তাপে যখন চারপাশ ঝলসে ওঠে, তখনও নাহিদ রানা থেমে থামেন না। দহন দিনের এই তপ্ত বাস্তবতায় তার প্রতিটি বল আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ শিবিরে। কখনো পায়ের ওপরের বল নাড়িয়ে দেয় আত্মবিশ্বাস। কখনো বুক সমান উচ্চতার বাউন্সার ছন্নছাড়া করে দেয় মনোবল। গতি, সুইং, বাউন্সার দিনে মিলে নাহিদ এক অদম্য জেদ।

সূর্যের কঠিন তেজ তাকে থামাতে নয়, বরং আরও জ্বালিয়ে তুলতে আসে। এই দহন দিনের নাহিদ নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ওঠেন তেজস্বী। যে আগুণে পুড়ে ছাড়খাড় অতিথিরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে পেস বোলিং সহায়ক উইকেটে নিজের কারিশমা দেখিয়ে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন। সোমবার নিউ জিল্যান্ডকে নাড়িয়ে নাহিদের পকেটে গেল আবার ৫ উইকেট।

আরো পড়ুন:

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফারে নাহিদ হয়ে উঠলেন অনন্য, অসাধারণ। উইকেট কেমন, তা নিয়ে ছিল ধোঁয়শা। নাহিদ রানার পক্ষে থাকবে না তা আগের থেকেই ধারণা করা যাচ্ছিল। তার খেলা না খেলাা নিয়েও ছিল শঙ্কা। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে বিরুদ্ধ উইকেটে, কঠিন কন্ডিশনে খেলানোর চ্যালেঞ্জ নেয়। নাহিদ ৫ উইকেট নিয়ে দেন প্রতিদান। তিন ম্যাচ আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরেই ২৪ রানে পেয়েছিলেন ৫ উইকেট। এবার ৩২ রানে শিকার ৫ উইকেট।

অষ্টম ওভারে তাকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক মিরাজ। পূর্বের সূর্য তখন মধ্যগগণে। তেজ দিচ্ছিল প্রবলভাবে। ওই তেজে প্রথম বলেই তার হাত ধরে আসে সাফল্য। হেনরি নিকোলস পায়ের ওপরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন সাজঘরে। এক ওভার পর আবার বোলিংয়ে ফিরে প্রথম বলে উইকেট। এবার বুক সমান বাউন্সার দেন উইল ইয়ংকে। দ্রুত গতির বোলিংয়ে ব্যাট সরাতে পারেননি ইয়ং। প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ১ মেডেনে ১০ রানে তার শিকার ২ উইকেট।

দ্বিতীয় স্পেলে যখন ফেরেন তখন নিউ জিল্যান্ড বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। নাহিদ ফিরেই ভেঙে দেন জুটি। তার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে মোহাম্মদ আব্বাস ক্যাচ দেন ফাইন লেগে। দৌড়ে, ডাইভ দিয়ে সেই ক্যাচ লুফে নেন লিটন। এই স্পেলে ৩ ওভারে ১০ রানে ১ উইকেট নেন দ্রুতগতির পেসার।

৪৩তম ওভারে নাহিদ ১ ওভারের স্পেল করেন। এবারও প্রথম বলে তার উইকেট। তৃতীয়বারের মতো নিজের প্রথম বলে উইকেট পান তিনি। আগের দিনের নায়ক ডেন ফক্সক্রফট ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন। নাহিদ পেয়ে যান চতুর্থ উইকেট। ৪৬তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে এসে ফাইফার হাতছানি দিচ্ছিল তাকে। অপেক্ষা দূর হয় তৃতীয় বলে। তার ভয়ংকর ইয়র্কারে বলের লাইন থেকে পা সরিয়ে বোল্ড হন জাইডেন লেনক্স। ওভারের শেষ বলে আরেকটি ইয়র্কারের আবেদনে সাড়া না পেয়ে রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু তা ভেস্তে যায়। তাতে ৩২ রানে ৫ উইকেটে শেষ হয় তার আগুনে বোলিং। ৬০ বলের ৪৩টিই ডট দিয়েছিলে নাহিদ। ২২ গজে নাহিদ কতটা জ্বালাময়ী ছিলেন তা স্পষ্ট হয়ে যায় এসব পরিসংখ্যানেই।

দহনের দিনে নাহিদ তেজের দেখা মিলল মিরপুরের ২২ গজে। সময়টা তার পক্ষে যাচ্ছে। নিজের সামর্থ্য দিয়েই স্বপ্নের আঁকিবুকি করছেন। এখন কেবল সামনে এগিয়ে যাওয়া।

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়