ঢাকা     সোমবার   ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৭ ১৪৩৩ || ৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কুষ্টিয়ায় শিক্ষকের ভুলে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না ইসরাত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৯, ২০ এপ্রিল ২০২৬  
কুষ্টিয়ায় শিক্ষকের ভুলে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না ইসরাত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জয়পুর জে.এম.জি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের গাফিলতির কারণে ইসরাত জাহান (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী এবারো এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ইসরাত জাহান দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি এলাকার সেনা সদস্য মাহাবুল হকের মেয়ে। সে জানায়, ২০২৪ সালে জয়পুর জে.এম.জি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধন করে এবং ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করে। তবে প্রায় দুই মাস আগে বিদ্যালয় থেকে তাকে জানানো হয়, তার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়নি।

আরো পড়ুন:

পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তার।

ইসরাত বলেন, “২১ এপ্রিল আমার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৮ এপ্রিল আমাকে জানানো হয়, আমি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবো না। শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে আমার জীবনের মূল্যবান দুইটি বছর নষ্ট হয়ে গেল।”

এ ঘটনায় তিনি দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কাছে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম নান্নু প্রথমে আংশিকভাবে শিক্ষার্থীর দায়ের কথা বললেও পরে প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ছাত্রীটি নিয়মিত ছিল না, তবে এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যথাযথ খোঁজ নেওয়ার দায়িত্ব ছিল, যা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পালন করেননি।” তবে, ফরম পূরণের জন্য তিনবার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক আরো জানান, এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও আগামী বছর যেন ইসরাত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ইসরাতের পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারুক আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অপরদিকে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহ জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যোগাযোগ করলে তিনি গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখবেন।

ঢাকা/কাঞ্চন/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়