ঢাকা     রোববার   ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৬ ১৪৩৩ || ২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মাদারীপুরে প্রবেশপত্র না পেয়ে ২০ শিক্ষার্থীর এসএসসি অনিশ্চিত

মাদারীপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ১৯ এপ্রিল ২০২৬  
মাদারীপুরে প্রবেশপত্র না পেয়ে ২০ শিক্ষার্থীর এসএসসি অনিশ্চিত

মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা দেওয়ার পরও এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে তাদের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গেলে জানতে পারে, তাদের প্রবেমপত্র আসেনি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

আরো পড়ুন:

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। নির্বাচনি পরীক্ষায় একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেন। এ সময় নির্ধারিত ফি-র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার পরও তারা প্রবেশপত্র পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ২০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম ফিলাপের নামে কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল ও অফিস সহকারী নূরে আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেতু, আবৃত্তি, আনিয়া, স্বর্ণা লিয়নসহ কয়েকজন বলেন, “আমরা অকৃতকার্য হলেও আমাদের কৃতকার্য দেখিয়ে ফরম ফিলাপের নামে টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন এসে শুনছি আমাদের এডমিট কার্ড আসেনি। আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”

আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী (আয়শা, লাবিবা, শান্তা ও শামীম) অভিযোগ করে বলেন, “শিক্ষকদের কাছ থেকেই আমরা শিক্ষা নেব, কিন্তু তারাই আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

একাধিক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল বলেন, “বিষয়টি ভুল হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।”
অফিস সহকারী নূরে আলমও বলেন, “প্রয়োজন হলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বোরহান রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, “যদি কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

ঢাকা/বেলাল/জান্নাত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়