ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ কার্তিক ১৪২৪, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

স্মোক পয়েন্ট অনুসারে স্বাস্থ্যকর ছয় তেল

সার্জিন শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১৮ ৪:০৭:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-১৮ ৪:১৯:১৯ পিএম
প্রতীকী ছবি

সার্জিন শরীফ : রান্না আমরা সয়াবিন তেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকি। তবে এ প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী হিসেবে স্মোক পয়েন্ট অনুসারে আরো ৬ ধরনের রান্নার তেল এবং সেগুলোর ব্যবহার তুলে ধরা হল।

রান্নার জন্য এসব বিভিন্ন ধরনের তেলের প্রতেকের স্মোক পয়েন্ট আলাদা, যা এদেরকে নির্দির্ষ্ট রান্নার জন্য আদর্শ হিসেবে চিহ্নিত করে।

স্মোক পয়েন্ট হচ্ছে এমন তাপমাত্রা যাতে তেল পুড়তে শুরু করে এবং ধোঁয়া উৎপন্ন হয়। রান্নার সময় অনেক বেশি তাপ দেয়ার ফলে যদি তেলের স্মোক পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায় তাহলে তা খাবারে পোড়া গন্ধ সৃষ্টি করে। এছাড়াও অধিক তাপে উপকারী পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায়।

অ্যাভোক্যাডো তেল

স্মোক পয়েন্ট : ৫২০ ডিগ্রি

এই তেলটিকে বলা হয় হার্টের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেল। অ্যাভোক্যাডো নামক বিশেষ বাদামজাতীয় ফল পাকার পর এর ওপরাংশের মোটা মাংসল অংশের নির্যাস-ই মূলত অ্যাভোক্যাডো তেল। এই তেল ভিটামিন ‘ই’-তে পরিপূর্ণ। আর এই ভিটামিন মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে এই তেলে রয়েছে ‘মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড’ যেগুলোকে আমরা বলতে পারি ‘উপকারী চর্বি’। গবেষণায় দেখা গেছে, ‘মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড’ হৃদরোগ এবং রক্তে কোলস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার: অ্যাভোক্যাডো অয়েলের স্মোকিং পয়েন্ট অনেক বেশি। এজন্য কড়াইয়ে ভাজা কিংবা গ্রিল করার সময়ে এই তেল ব্যবহার করতে হবে।

ক্যানোলা তেল

স্মোক পয়েন্ট : ৪০০ ডিগ্রি

কেক মিক্স তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান ‘ক্যানোলা তেল’। ক্যানোলা নামক ফলের বীজকে ভেঙে ক্যানোলা তেল তৈরি করা হয়। এতে যথেষ্ট পরিমাণে ‘ওমেগা-৩’ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে। তেলটি হালকা সুগন্ধযুক্ত।

ব্যবহার : সেদ্ধ খাবারে ক্যানোলা তেল ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ভাজি করতেও এর জুড়ি নেই। এছাড়া ফ্রাইপ্যান বা কড়াইয়ের ওপরে এটি লেপে দিয়ে চটচটে ভাব দূর করা যায়।

নারিকেল তেল

স্মোক পয়েন্ট : ৩২৬ ডিগ্রি

যখন ভোজ্যতেল হিসেবে নারিকেল তেল জনপ্রিয় হতে শুরু করেছিল তখন নারিকেল তেল ‘অনুরাগী’রা এর পুষ্টিগুণের কথা চিন্তা করে বেশ উৎফুল্লই হয়েছিলেন। এই তেলে থাকা ক্যালরির ৮৪ শতাংশই আসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে (যেখানে অলিভ অয়েলে থাকা ক্যালরির মোট ১৪ শতাংশ আসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে)। এই বিশেষ ধরনের ফ্যাট মানবদেহের উপকারী কোলস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়। স্বাস্থ্যের উপকারের পাশাপাশি এই তেলে নারিকেলের হালকা মিষ্টি সুগন্ধের কথা কে না জানে?

গ্রেপসিড (আঙুর বীজ) তেল

স্মোক পয়েন্টঃ ৪২০ ডিগ্রি

ওয়াইন তৈরির পর আঙুরের বীজ থেকে নিষ্কষিত তেলের নামই গ্রেপসিড তেল। এর বিশেষ কোনো গন্ধ না থাকায় খাবারে বিশেষ কোনো ফ্লেভার যোগ করতে চাইলে এই তেল ব্যবহার করা হয়। এই তেল ‘ভিটামিন ই’ এবং গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাটি অ্যাসিড যেমন- ওমেগা ৬ এর একটি ভালো উৎস। আর পেটের পীড়া রোধে এবং হার্টের রোগ প্রতিরোধ করতে এই তেল অত্যন্ত কার্যকরী।

ব্যবহার : সুস্বাদু সালাদ তৈরিতে এই তেলের জুড়ি মেলা ভার।

জলপাই তেল

স্মোক পয়েন্ট : ৩২০ ডিগ্রি

তেলটির নামেই তার পরিচয়। বছরের পর বছর ধরে জলপাই তেল রান্নায় ব্যবহারের জন্য সুপ্রসিদ্ধ। জলপাই এর নির্যাস থেকে পাওয়া এই তেলের বোতলের গায়ে কখনো কখনো ‘কোল্ড প্রেসড’ বা ‘এক্সট্রা ভার্জিন’ লেখা থাকলে বুঝে নিতে হবে বোতলের ভেতরের তেলের মৌলিক গুণাগুণ পুরোপুরি অটুট আছে।

সূর্যমুখী তেল

স্মোক পয়েন্ট : ৪৪০ ডিগ্রি

তেল উৎপাদনকারী বীজ পরিবারের অন্যতম সদস্য সূর্যমুখী। সূর্যমুখী তেলের ভেতরে থাকা ‘ওমেগা ৬’ এর জন্য এটি বিখ্যাত। এছাড়া ‘ওমেগা ৩’ এর চাহিদাও এই তেলের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব। এটি স্বাদের দিক দিয়েও অনন্য।

ব্যবহার : ভাজি করতে কিংবা শেঁকতে এই তেল ব্যাপক সমাদৃত।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ মার্চ ২০১৭/ফিরোজ

Walton
 
   
Marcel