ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

সাংসদ বাদলের অভিযোগ খণ্ডন করলেন নৌমন্ত্রী

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১১-২০ ৯:৫৯:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-২০ ৯:৫৯:০২ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সংসদ  থেকে : চট্টগ্রাম বন্দরে লস্কর পদে নিয়োগ নিয়ে জাসদ একাংশের কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদলের অভিযোগে চটেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।

নৌমন্ত্রী বলেছেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। তাই তার অসত্য বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

সোমবার রাতে সোমবার দশম সংসদের ১৮তম অধিবেশনে   ৩০০ বিধিতে বিবৃতি প্রদানকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে গতকাল রোববার মঈনুদ্দিন খান বাদল অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরে লস্কর পদে চট্টগ্রামের দুজন এবং বাকিদের অন্য একটি জেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্পিকারের উদ্দেশে নৌমন্ত্রী বলেন, আমি গতকাল সোমবার  চট্টগ্রাম থাকায় কথার জবাব দিতে পারি নাই। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল সংসদে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যে বলেছেন, এই বন্দরের সাথে চট্টগ্রামবাসী নানাভাবে যুক্ত। সেখানে লস্করের চাকরিতে ৯২ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন মাত্র চট্টগ্রামের, বাকি ৯০ জন অন্য একটি জেলার। এখানে একটি জেলার কথা বলা হয়েছে।

এর জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান  বাদলের বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য এবং বিভ্রান্তিকর। কারণ, সেখানে ৯২ জনকে নয় চাকরি দেওয়া হয়েছে ৮৫ জনকে। চাকরির বিধান মোতাবেক তাদের চাকরি দেওয়া হয়েছে।

এ সময় চাকরির বিধান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শ্রেণি বাদে অন্যান্য পদে লিখিত পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পর যিনি সর্বোচ্চ নম্বর পান তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু চার শ্রেণির বেলায় যারা মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করে, যাদের স্বাস্থ্যগত দিক ভালো তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তাছাড়া আমরা প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে  কোটা অনুসরণ করি। কোটা তালিকা উল্লেখ করে বলেন-মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০, মহিলা কোটা ১০, উপজাতি ৫ আনসার-ভিডিপি ৫, প্রতিবন্ধী ৫ এবং জেলা কোটা ৪৫। চাকরি দিলাম ৮৫ জনের, বলা হলো ৯২ জন। আর কোটায় দিলে চট্টগ্রামে আগামী ৩০ বছরেও চাকরি দেওয়ার কথা নয়। তবে যেহেতু বন্দরটি চট্টগ্রামে তাই তাদের ক্ষেত্রে জেলা কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমরা বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৯ জনকে চাকরি দিয়েছি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ২৩ জন, কক্সবাজারে চারজন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দুজন। অন্যান্য জেলার মধ্যে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ নরসিংদী, পাবনা, বগুড়া, খুলনা ও মাগুড়ার লোক রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ হাজার ১০০ জন লোকের চাকরি হয়েছে। কখনো কোনো অভিযোগ উঠে নাই। এখন কেন এই অভিযোগ? অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল। তিনি সুপারিশ করেছিলেন মনসুর আলীর জন্য, পিতা সিরাজুর রহমান। যার রোল নং-জে ০১৪৩২। এই ছেলেটির চাকরি তার অনুরোধে দেওয়া হয়েছে। এখানে যেহেতু শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় তাই অন্য মন্ত্রী, এমপিদের অনুরোধ করলে সেটাও বিবেচনা করি। এখানে কারা কারা সুপারিশ করেছেন তার তালিকা আছে। তিনি কী করে এই অভিযোগ করেন?

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের আরেক সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রামের নিয়োগ পরীক্ষা ঢাকায় কেন নেওয়া হয়? আমাদের যে সংখ্যক চাকরি প্রার্থী থাকে তাদের চট্টগ্রামে পরীক্ষা নেওয়ার মতো অবস্থা থাকে না। তাই ঢাকাতে পরীক্ষা নেওয়া হয়। উনি কখনো সুপারিশ করেন নাই। তবে উনার পার্টির নেতা এইচ এম এরশাদ সুপারিশ করেছিলেন, তাকেও চাকরি দেওয়া হয়েছে। কাজেই মঈনুদ্দিন খান বাদল যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অসত্য। অসত্য বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ নভেম্বর ২০১৭/আসাদ/হাসান/রফিক

Walton Laptop
 
     
Walton