ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৭ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

পরিচিত কিছু ওষুধের অদ্ভুত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-১৩ ৮:৫৩:০৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-১৩ ৮:৫৩:০৩ পিএম
প্রতীকী ছবি
Walton AC 10% Discount

এস এম গল্প ইকবাল : আপনি জানেন যে, কিছু ওষুধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘুমঘুম ভাব, মাথাব্যথা ও বমিবমি ভাব সৃষ্টি করতে পারে।

কিন্তু ওষুধ সেবনে কিছু অদ্ভুত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে, যেমন- প্রস্রাব নীল হয়ে যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা জিহ্বার লোম কালো হয়ে যাওয়া। এ প্রতিবেদনে পরিচিত কিছু ওষুধের অদ্ভুত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আলোচনা করা হলো।

* প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন
অনেক ওষুধ প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন করতে পারে, বলেন মেডশ্যাডোর মেডিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ড মেম্বার ও ফার্মাসিস্ট ডেভ ওয়াকার। তিনি যোগ করেন, ‘রঙ পরিবর্তনকারী একটি ওষুধ হচ্ছে পাইরিডিয়াম, যা মূত্রনালীর সংক্রমণজনিত অস্বস্তি কমাতে সেবন করা হয়। এটি প্রস্রাবের অ্যাসিডিটির ওপর ভিত্তি করে প্রস্রাবকে কমলা অথবা লাল রঙের করতে পারে। যক্ষার ওষুধ রিফামপিন, প্রদাহ-বিরোধী সালফাস্যালাজিন এবং রক্ত পাতলাকারী ওয়ারফারিন ওষুধও প্রস্রাবকে কমলা রঙের করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক নাইট্রোফুরেনটয়েন ও মেট্রোনাইড্যাজোল প্রস্রাবকে বাদামী রঙের করতে পারে এবং অ্যামিট্রিপটাইলিন, ডক্সোরুবিসিন, ইন্ডোমিথাসিন, সিমেটাইডিন, ফেনেরগান ও ট্রায়ামটিরেনের মতো সাধারণ প্রেসক্রিপশন ওষুধ প্রস্রাবকে নীল অথবা সবুজ করতে পারে। যদি ভিন্ন বা অদ্ভুত কিছু লক্ষ্য করেন, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

* যৌন ক্ষমতায় পরিবর্তন
যেসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় যৌন উত্তেজনা ও পারফরম্যান্স কমতে পারে তার মধ্যে শীর্ষে আছে সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটরস (এসএসআরআই) প্যাক্সিল, সেলেক্সা ও জোলফট; কিছু রক্তচাপের ওষুধ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের হরমোন, বলেন ওয়াকার। ভায়াগ্রার মতো ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের (লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যা) ওষুধ প্রতিনিয়ত যন্ত্রণাদায়ক ইরেকশনের কারণ হতে পারে- অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ট্রাজোডোনের (ওলেপট্রো) কারণেও এমনটা হতে পারে।

* আসক্তিমূলক আচরণ
রেস্টলেস লেগ (পায়ে অস্বস্তি) রোগ এবং পারকিনসন’স রোগের ওষুধ মিরাপেক্স (প্রামিপেক্সোল) এবং রিকুইপ (রোপিনাইরোল) হতে পারে কমপালসিভ বিহেভিয়ার বা আসক্তিমূলক আচরণের কারণ। এসব আচরণের মধ্যে জুয়া, যৌনআসক্তি, কমপালসিভ শপিং বা অনিয়ন্ত্রিত কেনাকাটা, বাইঞ্জ ইটিং বা যত পারা যায় তত খাওয়া ও অন্যান্য ধরনের ভোজন ব্যাধি অন্তর্ভুক্ত। লোকেরা অভিযোগ করেছেন যে, ডিপ্রেশন ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারের জন্য প্রেসক্রাইবকৃত অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ অ্যাবিলিফাই কমপালসিভ বিহেভিয়ার প্ররোচিত করতে পারে, বিশেষ করে জুয়া।

* ঘুমের ঘোরে হাঁটা
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে আপনি ঘুমের ঘোরো হাঁটতে পারেন অথবা ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালাতে পারেন। এসব ওষুধের কারণে আপনি মধ্যাহ্নে হঠাৎ করে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। ওয়াকার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন ওষুধ সেবনে বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী কিছু ওষুধের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ-বিরোধী ওষুধ বেনজোডায়াজেপাইন এবং ঘুমের ওষুধ অ্যাম্বিয়েন, লুনেস্টা ও সোনেটা। এছাড়া ওপিওইড ব্যথানাশক, মাংসপেশী শিথিলকারক এবং এমনকি ওভার-দ্য-কাউন্টার (যা কিনতে ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন লাগে না) অ্যান্টিহিস্টামিন (যেমন- বিনাড্রিল) কিছু লোকের মধ্যে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।’

* ঘ্রাণ ও স্বাদ হারানো
ওয়াকার বলেন, ‘অনেক অ্যান্টিবায়োটিক স্বাদ অথবা ঘ্রাণের সেন্স পরিবর্তন করতে পারে।’ এসব ওষুধের মধ্যে অ্যাম্পিসিলিন, ম্যাক্রোলাইডস, কুইনোলোনস, সালফামিথোক্স্যাজোল, ট্রাইমিথোপ্রিম, টেট্রাসাইক্লিন ও মেট্রোনাইড্যাজোল অন্তর্ভুক্ত। কানাডিয়ান ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের একটি গবেষণা অনুসারে, নিউরোলজিক ওষুধ (অ্যান্টিপারকিসোনিয়ানস অন্তর্ভুক্ত),  সিএনএস স্টিমিউল্যান্ট, মাইগ্রেনের ওষুধ ও মাংসপেশী শিথিলকারক ও কার্ডিয়াক ওষুধ (যেমন- অ্যান্টিহাইপারটেনসিভস, ডিউরেটিকস, স্ট্যাটিন ও অ্যান্টিঅ্যারিদমিকস) ও অধিকাংশ থাইরয়েড ওষুধের মতো একই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অন্যান্য ওষুধের মধ্যে ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, অ্যাংজিয়োলাইটিকস, মুড স্ট্যাবিলাইজার, হিপনোটিকস, অ্যান্টিহিস্টামিন, ব্রনকোডিলেটরস, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, স্টপ-স্মোকিং এইড, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিভাইরাল অন্তর্ভুক্ত।

* হ্যালুসিনেশন
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন অনেক ওষুধ এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াটি সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াকার বলেন, ‘আমার পরিবারের একজন মরফিন গ্রহণের পর দেয়ালে মাকড়সা দেখত।’ ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এবং উদ্বেগ ও বিষণ্নতা প্রশমনকারী ওষুধও হ্যালুসিনেশন সৃষ্টি করতে পারে, যেমনটা পারে ব্লাডার কন্ডিশন, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ এবং পারকিনসন’স রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ। ওয়াকার বলেন, ‘পারকিনসন’স এবং রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোমের জন্য ব্যবহৃত মিরাপেক্সও (প্রামিপেক্সোল) হ্যালুসিনেশনের কারণ হতে পারে, বিশেষ করে বৃদ্ধদের মধ্যে।’

* অত্যধিক ওজন বৃদ্ধি
১০ থেকে ১৫ শতাংশ ওজন সমস্যার সঙ্গে ওষুধের সম্পর্ক থাকতে পারে। কিছু ওষুধ ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, যেখানে অন্যান্য ওষুধ ক্যালরি পোড়ানোর ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করে অথবা রোগীর শরীরে পানি জমায়। ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু কমন ওষুধ হচ্ছে করটিকোস্টেরয়েড, ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, এসএসআরআই প্রোজ্যাক, সেলেক্সা ও প্যাক্সিল এবং সালফোনাইলুরিয়াস, বলেন ওয়াকার।

* দৃষ্টিগত সমস্যা
কিছু ওষুধ আপনার চোখে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যেমন- দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া এবং রেটিনা ড্যামেজ। এসব ওষুধের মধ্যে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের ওষুধ, রক্তচাপের ওষুধ, মিনোসাইক্লিন ও অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিক এবং এমনকি কিছু হার্বাল ওষুধও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। করটিকোস্টেরয়েড, অ্যান্টিসাইকোটিক, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধ এবং অ্যান্টিহিস্টামিনও দৃষ্টি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

* রগ ছিঁড়ে যাওয়া
টেনডন অর্থাৎ রগে ব্যথা, ফুলে যাওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে ফ্লুরোকুইনোলোন ক্লাসের ওষুধ, যেমন- সিপ্রো, সিপ্রো এক্সআর, প্রকুইন এক্সআর, লিভাকুইন ও ফ্লক্সিন, বলেন ওয়াকার। পায়ের গোড়ালির রগ, কাধের পেশীর রগ, উপরিস্থ বাহুর বড় মাংসপেশী, হাত ও বুড়ো আঙুলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এই সমস্যা হয়ে থাকে।

* জিহ্বার লোম কালো হওয়া
ওয়াকার বলেন, ‘ফার্মেসি স্কুলে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াটি সবসময় একটি মজার টপিক।’ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে আপনার জিহ্বার লোম কালো হয়ে যেতে পারে। এই অপ্রীতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অন্যান্য কারণ হচ্ছে ভালোভাবে মুখের যত্ন না নেওয়া, ধূমপান, অত্যধিক কফি পান এবং ডিহাইড্রেশন। বিসমুথ আছে এমন প্রোডাক্টের কারণেও এমনটা হতে পারে, যেমন- পেপটো-বিসমল।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : * ওষুধ সেবনে যত ভুল
* ওষুধের ভুল ব্যবহার
* যেসব সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়
* পুরুষের জন্য সেরা ১০ সাপ্লিমেন্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ জানুয়ারি ২০১৯/ফিরোজ

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge