ঢাকা     রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

তামিমের ৭৪-এর পর ইনিংস হারের চোখ রাঙানি

আবু হোসেন পরাগ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:৩১, ২ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
তামিমের ৭৪-এর পর ইনিংস হারের চোখ রাঙানি

আবু হোসেন পরাগ : নিউজিল্যান্ডের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই পেলেন সেঞ্চুরি। এর একটি আবার ডাবল। কিউইরা উঠল ৭০০ রানের এভারেস্টে।

প্রায় পাঁচ শ রানের লিডের বোঝা মাথায় নিয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হলো আবার। পরের গল্পটা প্রথম ইনিংসের মতোই। একের পর এক ‘আত্মহত্যা’র মিছিলে যোগ দিলেন ব্যাটসম্যানরা। তাতে হ্যামিল্টন টেস্টে বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছে ইনিংস হার।

নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাত শর ঠিকানায় পৌঁছে নিউজিল্যান্ড ইনিংস ঘোষণা করেছে ৬ উইকেটে ৭১৫ রানে। প্রথম ইনিংসে কিউইরা পেয়েছে নিজেদের সর্বোচ্চ ৪৮১ রানের বিশাল লিড। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ১৭৪। ইনিংস হার এড়াতে এখনো ৩০৭ রান দরকার সফরকারীদের, হাতে ৬ উইকেট।

সৌম্য সরকার ৩৯ ও মাহমুদউল্লাহ ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। দুজন পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন আছেন ৪৮ রানের জুটিতে। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল দ্বিতীয় ইনিংসেও একই পথে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ‘অদ্ভুতভাবে’ আউট হয়েছেন ৭৪ রানে।

সেডন পার্কে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি রানের উদ্বোধনী জুটি পায় বাংলাদেশ। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে যা ষষ্ঠবার। ১১ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৬ রান তুলে চা বিরতিতে যান তামিম ও সাদমান ইসলাম।


প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া নেইল ওয়াগনার আবারো শর্ট বল করে গেছেন ক্রমাগত। তামিম-সাদমান তাকে ভালোই সামলে নিচ্ছিলেন। এর মাঝেই একটি ভুল করে বসেন সাদমান। ওয়াগনারের অফ স্টাম্পের একটু বাইরের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে টপ-এজ হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে ছুটে এসে দারুণ ক্যাচ নেন ট্রেন্ট বোল্ট। তাতে ভাঙে ৮৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। সাদমান ফেরেন ৭১ বলে ৩৭ রান করে।

পরের ওভারে মুমিনুল হক রানের খাতা খোলেন বোল্টকে টানা দুই চার হাঁকিয়ে। অফ স্টাম্পের বাইরের পরের বলটা আলগা শটে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ক্যাচ দেন স্লিপে রস টেলরের হাতে।

বোল্টের পরের ওভারে বাজে শটে ফেরেন মোহাম্মদ মিথুনও। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ডানহাতি ব্যাটসম্যান খেলেন জায়গায় দাঁড়িয়ে। গালিতে সহজ ক্যাচ নিতে ভুল হয়নি কেন উইলিয়ামসনের। মিথুন মারেন ডাক। একটা সময় বিনা উইকেটে ৮৮ থেকে দ্রতই বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৩ উইকেটে ১১০!

তামিম অন্য প্রান্তে খেলে যাচ্ছিলেন নিজের মতোই। গত বছর বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল। তামিমও এগোচ্ছিলেন সেই পথে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আউট হয়ে যান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।


টিম সাউদির শর্ট বল ডাক করতে তামিম কিছুটা আগেই সরে গিয়েছিলেন লেগ স্টাম্প থেকে। পরে তিনি বসেও পড়েন। তবে ব্যাটটা ছিল উঁচুতে। ব্যাটের উল্টো পাশে লেগে বল উঠে যায় উইকেটের পেছনে আকাশে। সহজেই বল গ্লাভসে জমান উইকেটকিপার। ৮৬ বলে ১২ চার ও এক ছক্কায় ৭৪ রানের ইনিংসটি সাজান তামিম।

সাউদির পরের বলে আউট হয়ে যেতে পারতেন মাহমুদউল্লাহও। কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। নিউজিল্যান্ড চায় রিভিউ। স্নিকোমিটারে স্পাইকের প্রমাণ মেলে, তবে বল ততক্ষণে ব্যাট পেরিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আসে ব্যাটসম্যানের পক্ষে।

যেভাবে ধস নেমেছিল তাতে তৃতীয় দিনেই বাংলাদেশ হেরে বসে কি না, এমন শঙ্কাও জেগেছিল! সৌম্য-মাহমুদউল্লাহ সেটি হতে দেননি। দুজন নিরাপদে পার করে দেন দিনের বাকি ১২ ওভার ৪ বল। ইনিংস হার এড়াতে চতুর্থ দিনে এই দুজনকেই করতে হবে দারুণ কিছু।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের ৪ উইকেটে ৪৫১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। আগের দিন জিত রাভাল ও টম ল্যাথামের সেঞ্চুরির পর তিন অঙ্ক ছোঁয়ার কাছে ছিলেন উইলিয়ামসন। ৯৩ রানে আজ তৃতীয় দিন শুরু করে উইলিয়ামসন সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন সহজেই। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে উইলিয়ামসন পূর্ণ করেছেন ২০ সেঞ্চুরি।
 


নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা নেইল ওয়াগনার তুলেছিলেন ঝড়। তার ৩৫ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৪৭ রানের ঝড় থামিয়ে প্রথম টেস্ট উইকেটের স্বাদ পেয়েছেন ইবাদত হোসেন। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংসটি খেলে উইকেটকিপার লিটন দাসকে ক্যাচ দেন ওয়াগনার।

ষষ্ঠ উইকেটে বিজে ওয়াটলিংয়ের সঙ্গে ৯৬ রানের জুটি গড়েন উইলিয়ামসন। ৩১ রান করা ওয়াটলিংকে লিটনের ক্যাচ বানিয়ে এ জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে এরপর উইকেটে এসে ঝড় তোলেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। ৩৮ বলে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। আর উইলিয়ামসন এগিয়ে যান ডাবল সেঞ্চুরির দিকে।

ব্যক্তিগত ১৯৬ থেকে আবু জায়েদ রাহীকে চার হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন উইলিয়ামসন। নিউজিল্যান্ড ইনিংস ঘোষণা পর এরপরই। ২৫৭ বলে ১৯ চারে ঠিক ২০০ রানে অপরাজিত থাকেন উইলিয়ামসন। এই ইনিংসের পথে টেস্টে নিউজিল্যান্ডের হয়ে দ্রুততম ৬ হাজার রান, সেডন পার্কে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও গড়েছেন কিউই অধিনায়ক। ৫৩ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন ডি গ্র্যান্ডহোম।

উইলিয়ামসনের পাশাপাশি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের মিরাজও, তবে সেটি রান দেওয়ার! ৪৯ ওভারে ২ উইকেট পেতে মিরাজ দিয়েছেন ২৪৬ রান। তাইজুল ইসলামকে ছাড়িয়ে কোনো টেস্ট ইনিংসে বাংলাদেশের বোলার হিসেবে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার রেকর্ড এখন মিরাজের। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৭.৩ ওভারে ২১৯ রান দিয়েছিলেন তাইজুল।

রান দেওয়ার সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের তিন পেসার। আবু জায়েদ ৩০ ওভারে ১০৩, ইবাদত ২৭ ওভারে ১০৭, খালেদ আহমেদ ৩০ ওভারে দিয়েছেন ১৪৯ রান। এর মধ্যে অভিষিক্ত ইবাদত ছাড়া আর কেউ উইকেটের দেখা পাননি। আগের দিন ২ উইকেট নিয়েছিলেন সৌম্য, একটি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। 



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ মার্চ ২০১৯/পরাগ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়