সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন মানবতার কবি
|| রাইজিংবিডি.কম
শাহ মতিন টিপু
ঢাকা, ২০ জুন : সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন মানবতার কবি। বাংলা একাডেমী তাঁকে স্মরণের মধ্য দিয়ে মূলত মানবমুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাই স্মরণ করিয়ে দিতে চায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমীর কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোঃ আলতাফ হোসেন এ কথা বলেন।
সভায় ‘সুকান্ত ভট্টাচার্য : বাম রেনেসাঁসের কবি-দিশারি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি অসীম সাহা এবং অধ্যাপক বদিউর রহমান। সভাপতিত্ব করেন এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
প্রাবন্ধিক অধ্যাপক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য বাম রেনেসাঁস অর্থাৎ বৃহৎ মানবচেতনারই প্রতিকৃতি। ইতিহাসের এক জটিল যুগপর্যায়ে মানবিক দ্রোহচেতনাকে কবিতা ও অঙ্গীকারে ধারণ করেছেন তিনি।
আজকের তাত্ত্বিক বিভ্রান্তির ডামাডোলে যারা সুকান্তকে অবজ্ঞা করতে চায় তাঁরা মূলত মানবমুক্তির শত্রু। তিনি বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য যান্ত্রিক মার্কসবাদের পূজারি ছিলেন না বরং মানুষের চিরকালীন গণচেতনাকে শিল্পের আধারে ধারণ করতে চেয়েছেন।
আলোকচকবৃন্দ বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রাসঙ্গিকতা আজ খুব বেশি করে অনুভূত হচ্ছে।
একদিকে তাঁর কবিতায় যেমন বিষয় ও ছন্দের বৈচিত্র্য বহমান ছিল অন্যদিকে সামষ্টিক মুক্তির আকাক্সক্ষাকে বাক্সময় করেছেন তিনি। তাঁরা বলেন, সুকান্তকে ‘কিশোর কবি’ বলে তাঁর সামগ্র্যকে অস্বীকার করা এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক শঠতা কারণ স্বল্পায়ু জীবনেই তিনি তাঁর পরিণতির সাক্ষ্য রেখে গেছেন বাংলা সাহিত্যে।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্যকে নতুন করে স্মরণ করে বাংলা একাডেমী আমাদের ধন্যবাদার্হ হয়েছেন। কারণ এক সময়ে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তজয়ন্তী একত্রে পালনের মধ্য দিয়ে আমরা মূলত মানবতার কবিদের একত্রে স্মরণ করতাম কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সাহিত্যিক ও রাজনীতিক বিভ্রান্তিতে আমরা সুকান্তকে ভুলে যেতে বসেছি।
তিনি বলেন, বিস্মরণের কবি সুকান্ত নন। গভীর দার্শনিকতা, পরিচ্ছন্ন ইতিহাসজ্ঞান এবং প্রবল দেশপ্রেম তাঁকে দিয়ে রচনা করিয়ে নিয়েছে বিপ্লবী অনুভবের শিল্পিত কবিতাগুচ্ছ। তাই তাঁর বিপ্লবী ও কবিসত্তাকে পৃথক করে দেখার কোনো অবকাশও নেই।
রাইজিংবিডি/শামটি/এলএ
রাইজিংবিডি.কম