‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ কী সত্যিই দানব?
অন্য দুনিয়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ নামটি শোনা মাত্র অনেকেই মনে করেন, এ হলো এক দানবের নাম। কিন্তু বাস্তবে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন কি দানব, নাকি অন্য কিছু? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে উনিশ শতকের শুরুর দিকে।
সময়টা ১৮১৫ সাল। সুইজারল্যান্ডের লেক জেনেভায় ছুটি কাটাতে গিয়ে তরুণী মেরি শেলি এক বিশেষ আড্ডায় অংশ নেন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজ কবি লর্ড বায়রন, পার্সি বিসি শেলি এবং চিকিৎসক জন পোলিডরি। একদিন গল্প পড়তে পড়তেই বায়রন সবাইকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন—প্রত্যেকে একটি করে ভূতের গল্প লিখতে হবে। এই খেলাচ্ছলে শুরু হওয়া উদ্যোগই বদলে দেয় মেরি শেলির জীবন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি লিখতে শুরু করেন এমন এক গল্প, যা পরে রূপ নেয় বিখ্যাত উপন্যাস Frankenstein; or, The Modern Prometheus–এ। ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হওয়ার পরই এটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।
মেরি শেলির ব্যক্তিগত জীবনও ছিল নানা ট্র্যাজেডিতে ভরা। তিনি ছিলেন নারীবাদী চিন্তাবিদ মেরি ওলস্টোনক্রাফট এবং দার্শনিক উইলিয়াম গডউইন–এর কন্যা। জন্মের এক মাসের মধ্যেই তিনি মাকে হারান। পরবর্তী জীবনেও সন্তানের মৃত্যু ও পারিবারিক বিপর্যয় তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। অনেকেই মনে করেন, প্রিয়জনদের হারানোর বেদনা থেকেই তার লেখায় ‘জীবন সৃষ্টি’–র ধারণা এসেছে।
অনেকেই যাকে দানব বলে মনে করেন, সে আসলে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন নয়। উপন্যাসে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হলেন এক বিজ্ঞানী—ড. ভিক্টর ফ্রাঙ্কেনস্টাইন। তিনিই মৃতদেহের অংশ জোড়া দিয়ে এক জীব সৃষ্টি করেন। আর সেই সৃষ্ট প্রাণীটিই আসলে ‘দানব’, যার কোনো নির্দিষ্ট নামই লেখক দেননি।
দুই শতাব্দী পরেও ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ শুধু একটি নাম নয়—এটি সাহিত্য, বিজ্ঞান ও মানবিক প্রশ্নের এক শক্তিশালী প্রতীক।
ঢাকা/লিপি