পচনধরা আম খাওয়া কী বিপজ্জনক?
জ্যৈষ্ঠের গরম বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে পাকা আমের মিষ্টি সুবাস। গরমের এই সময়ে এক গ্লাস ঠান্ডা আমের জুস অনেকেরই পছন্দ। তবে পচনধরা, পোকা আক্রান্ত বা ছত্রাক-আক্রান্ত আম দিয়ে তৈরি জুস স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, ফলের ভেতরে পোকা দেখা গেলে সেটিই একমাত্র সমস্যা নয়। বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ফলটিতে পচন ধরেছে বা এমন পরিবেশে ছিল, যেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সহজেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ওই ফল খেলে বা তার জুস পান করলে খাদ্যে বিষক্রিয়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বেঙ্গালুরুর কেআইএমএস হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. দীপক গঙ্গা পি. বলেন, “দূষিত ফল খাওয়ার পর বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, পেট মোচড়ানো, ফাঁপা ভাব এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শরীর ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে এসব প্রতিক্রিয়া দেখায়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, পচনশীল ফলের মধ্যে শুধু ব্যাকটেরিয়াই নয়, ছত্রাকও জন্মাতে পারে। কিছু ছত্রাক আবার বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই ফলের ওপর সামান্য ছত্রাক বা পচনের চিহ্ন দেখলেও সেটি খাওয়া উচিত নয়।
এ ধরনের ফল খেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ। তাদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া ও বমির কারণে দ্রুত পানিশূন্যতা, সংক্রমণ এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
অনেকের ধারণা, ফল জুস বা পাল্পে পরিণত করলে তা নিরাপদ হয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত ফল প্রক্রিয়াজাত করার পরও ক্ষতিকর জীবাণু থেকে যেতে পারে। তাই নষ্ট ফল দিয়ে তৈরি জুসও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কেনার আগে ফল ভালোভাবে পরীক্ষা করা, পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে খাওয়া এবং পচা, অতিরিক্ত নরম, দুর্গন্ধযুক্ত বা পোকা আক্রান্ত ফল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
*দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে
ঢাকা/জান্নাত/শান্ত
লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা