দুই বছরেও চালু হয়নি সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর
রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। ২০২৪ সালে ঢাকঢোল পিটিয়ে সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর উদ্বোধন করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। কিন্তু মাত্র ১০ দিন পরেই বন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কয়েকবার চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও বন্দরটির কার্যক্রম শুরু হয়নি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরের সবসময় এ নৌপথে পানি থাকলেও পণ্যবাহী বাল্ক বা লাইটার চলাচল করে। নদী খননের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। স্বল্পমূল্যে পণ্য আমদানি ও পরিবহণ খরচ কম হওয়ায় দ্রুত বন্দর চালুর উদ্যোগ নিলে ব্যবসায় গতি ফিরবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন। তবে গুঞ্জন রয়েছে, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের ওপর।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কাস্টমস-এর দাবি অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত উদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবেই বন্দর স্থবির হয়ে আছে। তবে, কিছুটা সময়ক্ষেপণ হলেও বন্দরটি নিয়ে আশাবাদী বিআইডব্লিউটিএ। ২০২৫ সালের ১ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ পোর্ট অব কল পরিদর্শন করেন। অবকাঠামো উন্নয়ন করে দ্রুত এটি চালুর নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
আমদানি-রফতানিকারকদের অভিযোগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা ও এনবিআর-এর গা-ছাড়া ভাবের কারণে ঝুলে আছে সুলতানগঞ্জ বন্দরের ভাগ্য। পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘নৌবন্দরে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে। আমার তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে মাসের পর মাস পরে আছে। প্রতি মাসে ১৫ লাখ টাকা করে তাদের ভাড়া বাবদ দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত বন্দরটি চালু না হলে ব্যবসায়ীরা চরম বেকায়দায় পড়বে।’’
সুলতানুল ইসলাম নামে আরেক আমদানিকারক বলেন, ‘‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থলবন্দরের পানামা মনে করে, এই বন্দর চালু হলে তাদের ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাবে। এটি ভুল ধারণা। যার যেদিক দিয়ে সুবিধা হবে সেদিক দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া করবে। সরকার দুই বন্দর থেকে রাজস্ব পাবে। এজন্য সরকারের উচিত দ্রুত এখানে কাস্টমস বসিয়ে বাণিজ্য শুরু করা।’’
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বন্দর চালু হলে পণ্য আমদানিতে ২০-২৫ শতাংশ ব্যয় কমবে। এছাড়া অনেক সময় কম লাগবে পণ্য পরিবহনে। বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানান সুলতানুল ইসলাম।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও এনবিআর কেন এই নৌবন্দরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছে না তা উদ্বেগজনক। নৌবন্দর চালু না করার পেছনে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোন স্বার্থ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার।’’
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহসভাপতি শামসুর রহমান শান্তন বলেন, ‘‘এই নৌবন্দর চালু হলে সরকার যেমন রাজস্ব আদায় করবে, তেমনি ব্যবসায়িক জোন হিসেবে গড়ে উঠবে এই অঞ্চল। এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল হবে এই নৌবন্দর ঘিরে। ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমরা এনবিআরের সঙ্গে বসবো। এই রুট চালু হলে রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে।’’
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। সরকার প্রধান চাইলে দ্রুতই চালু করা হবে এই বন্দরে বাণিজ্য কার্যক্রম।’’
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগে সুলতানগঞ্জ-ময়া এবং গোদাগাড়ী-লালগোলা নৌঘাটের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু ছিল। যুদ্ধের পর রুটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাজশাহী থেকে ভারতের ধূলিয়ান পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার নৌপথ অনুমোদন পেলেও পদ্মার নাব্যতা সংকটের কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। পরে সংক্ষিপ্ত করে সুলতানগঞ্জ-ময়া রুট নির্ধারণ করা হয়। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পুরোপুরি চালু করতে হলে এনবিআরের অনুমোদনের পাশাপাশি সংযোগ সড়কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
ঢাকা/মাহী//
লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা