ঢাকা     রোববার   ১৪ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩ || ২৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মুন্সীগঞ্জে পাওনা টাকা দ্বন্দ্বের জেরে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৮, ১৪ জুন ২০২৬   আপডেট: ১২:৫৮, ১৪ জুন ২০২৬
মুন্সীগঞ্জে পাওনা টাকা দ্বন্দ্বের জেরে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

 

আরো পড়ুন:

মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকায় পাওনা টাকা আদায়ের দ্বন্দ্বের জেরে মো. আরিফ বেপারী (৩২) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে পৌরসভার জসিমনগর এলাকার একটি ঘাসের জমি থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত মো. আরিফ বেপারী পৌরসভার পাঁচঘরিয়া এলাকার প্রয়াত মতিন বেপারীর ছেলে। আরিফ সদরের মুন্সীরহাট বাজারে কসাইয়ের কাজ করতেন। তিনি মুন্সীরহাটসংলগ্ন জসিমনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আরিফের ছোট ভাইয়ের পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে এনায়েত হোসেন ও তার লোকজন আরিফকে হত্যা করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে এলাকার কয়েকজন নারী তাদের বাড়ির পাশের ঘাসের জমিতে এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফের মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা আরিফের পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ, স্থানীয় ও নিহতের স্বজনরা জানান, আরিফের ছোট ভাই আকাশ মুন্সিরহাট বাজারে কসাইয়ের কাজ করতেন। সেই সূত্রে পাশ্ববর্তী চরকিশোরগঞ্জ এলাকার আরেক কসাই নূর মোহাম্মদের সঙ্গে মাংস কেনাবেচা নিয়ে আকাশের আর্থিক লেনদেন হয়। ওই লেনদেনের সূত্রে নূর মোহাম্মদের কাছে আকাশের ৪৯ হাজার টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে প্রায় ছয় মাস আগে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করেন আরিফ।

এ ঘটনার জের ধরে পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে শনিবার সকালে আকাশ নূর মোহাম্মদকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যান। পরে তারা মুন্সীরহাট বাজার কসাই সমিতির কাছে বিষয়টি জানিয়ে নূর মোহাম্মদকে তাদের জিম্মায় রাখেন। সেদিন শহরের যোগিনীঘাট এলাকার বাসিন্দা এনায়েত হোসেন দলবল নিয়ে মুন্সিরহাট বাজারে গিয়ে নূর মোহাম্মদকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় আরিফসহ উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

আকাশ বেপারী বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় এনায়েত হোসেনের ছেলে, ভাতিজাসহ কয়েকজন আমাকে মারার জন্য খুঁজলে আমি দৌড়ে কোনোমতে পালিয়ে যাই। তারা কয়েকবার আমাদের এলাকায় এসে আমাদের খুঁজেছে। আজ সকালে ভাইয়ের মরদেহ জমি থেকে পেয়েছি। তাকে নির্মমভাবে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, এ ঘটনার সঙ্গে নূর মোহাম্মদ ও এনায়েত হোসেনের লোকজন জড়িত থাকতে পারে। আমরা ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয় জানতে অভিযুক্ত এনায়েত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সকালে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। মরদেহ উদ্ধার শেষে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও ক্রাইম) মো. কামরান হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে ওই যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।

ঢাকা/রতন/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়