ঢাকা     রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

উত্তরাঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:০১, ২৭ জুন ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
উত্তরাঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানিবৃদ্ধি

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, সিলেট, রংপুর, সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকে ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধানের বীজতলা এবং ফসলের ক্ষেত।

এ সব জেলা থেকে রাইজিংবিডির নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি এবং সংবাদদাতারা এ সংক্রান্ত সংবাদ পাঠিয়েছেন।  

রংপুরের প্রতিবেদক নজরুল মৃধা জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দেড় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার (২৭ জুন) সকালে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর ১৫টি চরে বসবাসকরা প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, চরইচলী; কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, চর মটুকপুর; নোহালী ইউনিয়নের বাগডোহরা, চর নোহালী ও কচুয়া গ্রামের বাড়িতে পানি উঠায় কিছু পরিবার গবাদিপশুসহ উঁচু রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে।
 


কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাজু বলেন, বিনবিনা এলাকায় ১০০ পরিবার পানিবন্দি। ভেঙে যাচ্ছে ওই এলাকার পাকা রাস্তা। বিনবিনা এলাকায় বাঁধেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, তার ইউনিয়নের শংকরদহ, ইচলী, জয়রামওঝা ও বাগেরহাট গ্রামের ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি এখনো বৃদ্ধির দিকে।

কাউনিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত ইউনিয়নগুলো হলো বালাপাড়া, টেপামধুপুর, শহীদ বাগ ও নাজিরদহ। এসব ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ওইসব গ্রামের কমপক্ষে ২০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, সিলেটের সবকটি নদীর পানি বাড়ছে। সুরমা এবং সারি নদীর দুটি পয়েন্টে পান বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার এবং সারি নদী পানি সারি পয়েন্টে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে  সুরমার সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে ৯৭ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে ১৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন করে অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
 


শুক্রবার রাত ১২টার দিকে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনজুর আহমদ জানান, পাহাড়ি ঢলে সারি ও পিয়াইন নদীর পানি দুই তীর উপচে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের জাফলং চা বাগান, বাউরবাগ হাওর, আসামপাড়া হাওর; পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দা, তীতকুল্লি, বুধিগাঁও, খাস, দাড়াইল, বাংলাইন ও লাতু হাওর;  পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের সাতাইন, পাঁচপাড়া, পুকাশহাওসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে শতাধিক মৎস খামারের মাছ। সারি-গোয়াইনঘাট সড়ক ও গোয়াইনঘাট- জাফলং সড়ক দিয়ে যান চলাচলও বন্ধ আছে।

কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মী প্রসাদ পূর্ব, লক্ষ্মী প্রসাদ পশ্চিম, বড় চতুল, কানাইঘাট পৌরসভা, রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বারিউল করিম খান।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি আল আমিন জানান, সুনামগঞ্জের নদী ও হাওরের পানি বাড়ছে। 

শনিবার সকাল ৯টায় জেলায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার এবং যাদুকাটা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা জানান, এই বর্ষা মৌসুমে সুনামগঞ্জে নদীর পানি এটাই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।  

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজানে অর্থাৎ ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে গত ৭২ ঘণ্টায় অস্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
 

 

সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে যাওয়া সুরমা ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা সীমান্তবর্তী পাহাড়ি নদীগুলোর পানি কূল উপচে প্রত্যন্ত এলাকায় প্রবেশ করেছে। জেলার সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর এবং তাহিরপুর উপজেয়ার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর, কাজীর পয়েন্ট, উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া, বড়পাড়া এলাকার সড়কে এবং কিছু বাড়িতে পানি উঠেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, ভারতের মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে গত ৭২ ঘণ্টায় ৯০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৯০ মিলিমিটার এবং এর আগের ৭২ ঘণ্টায় ২৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ফারুক আলম জানান, জেলার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ঘর-বাড়ি, মাঠঘাট তলিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) লালমনিরহাটের দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধরলা নদীর লালমনিরহাট অংশে বিপৎসীমা অতিক্রমের কাছাকাছি ছিল। কুড়িগ্রাম অংশে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তিস্তা ও ধরলার পানি প্রবাহ এখনো ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে- শনিবার (২৭ জুন) ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। ফলে এই নদীগুলোর পানি আরো বাড়তে পারে।

নদীতে পানিপ্রবাহের গতিধারা দেখে স্থানীয় অনেকে আশঙ্কা করছেন- এবারের পানি বৃদ্ধির অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল হক জানান, ধরলা তিস্তা ও বহ্মপুত্র'র উৎসস্থল একই স্থানে। উজানে গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাত থাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে এসব নদ-নদীর পানি।

নীলফামারী সংবাদদাতা ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সর্তকীকরণ কেন্দ্র জানায়, শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট।

টানা দুই দিনের বৃষ্টির ফলে তিস্তার আশপাশে আমন ধানের বীজতলার পাশাপাশি চল অঞ্চলে বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে বিভিন্ন পুকুরের মাছের বের হওয়ার ফলে মৎস্যচাষিদের ক্ষতি হয়েছে।
 


ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানায়, তিস্তার বন্যায় ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশ চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারীসহ ১০ ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি চর ও গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ওই এলাকায় বসবাসকারীরা নিরাপদে উঁচু স্থানে সরে গিয়েছে। চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেত ও আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে রয়েছে। জেলার অধিকাংশ নিচু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় তিস্তা নদীর অববাহিকায় বসবাসকরা মানুষজনের ওপর নজরদারি করছেন। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, নীলফামারীর তিস্তা অববাহিকায় সরকারিভাবে ১২টি বড় নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেই নৌকাগুলো দিয়ে বন্যাকবলিত পরিবারকে সহায়তা করা হবে। পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী মজুদ রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রামের সংবাদদাতা বাদশাহ্ সৈকত জানান, কুড়িগ্রামে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জেলার সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে অন্যান্য নদীর পানিও।

দুটি নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলসহ দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচর প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলে সবজিক্ষেত এবং কাউন, চিনা, বাদামসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল।
 



ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বলদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের যাতায়াতের কাচা রাস্তা পানির নিচে চলে গেছে। পানি প্রবেশ করেছে অন্তত ৫০টি বাড়িতে। নদীর তীররক্ষা বাঁধ না থাকায় বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।

ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ও নারায়ণপুর; উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ও বেগমগন্জ; চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পড়ায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, আগামী দু’-এক দিন ধরলা ও তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

 

 

ঢাকা/টিপু/বকুল

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়