RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৩ ১৪২৭ ||  ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পানি নিষ্কাশনের অভাবে নষ্ট হচ্ছে শত শত বিঘা জমির ফসল

ধামইরহাট (নওগাঁ) সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪০, ৮ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৪৭, ৮ নভেম্বর ২০২০
পানি নিষ্কাশনের অভাবে নষ্ট হচ্ছে শত শত বিঘা জমির ফসল

নওগাঁর ধামইরহাটে ইসবপুর ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশনের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে শত শত বিঘা কৃষি জমির ফসল। 

কিছুদিন আগের টানা বৃষ্টিপাতে নিচু জমিগুলোতে পানি জমে রোপণকৃত ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এখানের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা।

ইসবপুর ইউনিয়নের অনেক জমি এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কয়েকবছর ধরেই বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যাওয়া তিন ফসলি জমিগুলোতে আর ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এবারো একই পরিণতি হওয়ায় কৃষকদের বুকে এখন চাপা আর্তনাদ।

ধামইরহাট উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবারে উপজেলায় ১৯,৭৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১২৩ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসবপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর  মহিষগাড়ি বাঁধের পূর্বপাশে রাঙালঘাট, মহিষপুর, মানপুর এলাকায় প্রায় ৪ শত বিঘা জমির ফসল দীর্ঘ সময় পানিতে তলিয়ে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে।  নদীর পশ্চিম পাড়ের চর এলাকারও শত শত বিঘা জমির ফসল পানি নিষ্কাশনের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।  উঁচু কিছু জমির ফসল ঘরে তুলতে পারার আশা থাকলেও নিচু জমিগুলোর ফসল সম্পুর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।  ওই ইউনিয়নে টানা বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে ৭৪ হেক্টর জমির ধান ও ৩ হেক্টর জমির রবিশস্য চলতি মৌসুমে নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষকরা বলছেন, ওই নদীর বাঁধ নির্মাণের পর থেকে পানি নিষ্কাশনের অভাবে তাদের ফসল প্রতি বছরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাঁধে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে ওইসব জমির ফসল রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন তারা।

রাঙ্গালঘাট এলাকার কৃষক মো. জাইদুল ইসলাম বলেন, বাঁধের পূর্বপাশে আমার পরিবারের প্রায় ৫ বিঘা ফসলি জমি আছে। তার মধ্যে আমার নিজস্ব ৪৯ শতাংশ জমিতে আমি প্রতি বছর ধানসহ রবিশস্য লাগিয়ে থাকি। তা থেকে বছরে আমার ভালো আয়ও হতো। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের অভাবে কয়েক বছর ধরে আমি ফসল ঠিকমতো ঘরে আনতে পারছিনা।

কৃষক দেলোয়ার হোসের সরদার জানান, মহিষগাড়ি বাঁধ নির্মাণের পর থেকে তার ৮ বিঘা জমির ফসল বর্ষা মৌসুম এলেই পানিতে তলিয়ে যায়। এবারো আমার সকল জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।  

ইসবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েশ বাদল বলেন, গত মাসে উপজেলা পর্যায়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  খুব শিগগিরই এ বিষয়ে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর সাথে কথা বলে আমরা ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার গনপতি রায় বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁ জেলা শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান খান বলেন, আমার এ বিষয়ে জানা ছিল না।  আমি আমার লোকজন ওই এলাকায় পাঠাবো।  বিষয়টি কি পর্যায়ে আছে তা দেখার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অরিন্দম মাহমুদ/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়