ঢাকা     শনিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৫ ১৪২৯

যুগান্তকারী প্রকল্প বঙ্গবন্ধু টানেল

তিতাস আনন্দ: || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪৯, ৪ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:১৭, ৪ ডিসেম্বর ২০২০
যুগান্তকারী প্রকল্প বঙ্গবন্ধু টানেল

বঙ্গবন্ধু টানেলের নকশা

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে কর্ণফুলী নদীর পানির স্তরের ৪৫ মিটার গভীর দিয়ে আনোয়ারায় গিয়ে বীরদর্পে উপস্থিতি জানান দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। চীনের অর্থায়নে ৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার লম্বা এ টানেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৭০৫ মিলিয়ন ডলার। জমি অধিগ্রহণ এবং প্রশাসনিক ব্যয় বহন করছে বাংলাদেশ সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণায়লয়ের অধীন টানেলটির কাজ ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যান চলাচলের জন‌্য টানেল খুলে দেওয়ার কথা আছে। এ টানেলটি এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পতেঙ্গা কার্যালয়ে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাইজিংবিডিকে জানান, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো মেগা প্রকল্প শুরুর প্রাক্কালে, বিশেষ করে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ঝামেলা পোহাতে হয় লম্বা সময় ধরে। কিন্তু টানেলের কাজ করতে গিয়ে তাদের সে ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়নি। তারা এলাকাবাসীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, এটি এলাকাবাসীর অহঙ্কার করার মতো প্রকল্প। আনোয়ারা পরিণত হবে চট্টগ্রামের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত শহরে। এতে কাজ করাটা সহজ হয়েছে।

জনগুরুত্বপূর্ণ সাতটি বিষয়কে সামনে রেখে টানেল নির্মাণে হাত লাগিয়েছে সরকার। আনোয়ারা এলাকাটি এরইমধ্যে শিল্পপার্কে পরিণত হচ্ছে। এখানে চায়না ও কোরিয়ান অর্থনৈতিক অঞ্চল ছাড়াও আছে কাফকোসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বর্তমানে আনোয়ারা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহনে ব‌্যবহৃত বড় আকারের কনটেইনারবাহী ট্রেলর ও ট্রাক চট্টগ্রাম নগরীর ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে ভয়ানক যানজট সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণও এই যানজট। টানেল নির্মাণ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম নগরীর ওপর চাপ অনেক কমবে এবং কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে।

চায়না কমিউনিকেশন কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড টানেল নির্মাণকাজে নিয়োজিত আছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে আনোয়ারা প্রান্তে যাওয়ার সুড়ঙ্গ পথের কাজ শেষে মাটির খোঁড়ার মেশিনটি খুলে পতেঙ্গা অভিমুখে ফের সেটিং করতে হচ্ছে (যন্ত্রাংশ খুলে ঘোরাতে হচ্ছে)। এতে প্রায় তিন মাস সময় লাগছে। মেশিন সেটিং সম্পন্ন হলে আবার মাটি কাটার কাজ শুরু হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ২০১৭ সালে টানেলের জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়। কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে আনোয়ারা প্রান্তে মাটি কাটার কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। 

প্রকল্প পরিচালক হারুন অর রশিদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘টানেলের কাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম নগরীর ওপর যানবাহনের চাপ কমবে। বাংলাদেশের প্রথম এ সুড়ঙ্গ পথে ঢাকা, চট্টগ্রাম  এবং কক্সবাজার মহাসড়ক যুক্ত হবে। কক্সবাজার অভিমুখী যানবাহনকে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশ করতে হবে না। এটি এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই টানেলটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক। আনোয়ারা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহনে এ সুড়ঙ্গ পথটিই ব্যবহৃত হবে। সব মিলিয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল হচ্ছে বাংলাদেশের যুগান্তকারী প্রকল্প।’


 

ঢাকা/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়