ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

নাম তার ‘বাঘ হাবিব’

আলী আকবর টুটুল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৮, ৩১ মে ২০২১   আপডেট: ১৪:১৩, ৩১ মে ২০২১
নাম তার ‘বাঘ হাবিব’

আসল নাম হাবিব তালুকদার (৫০)। সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলায় তাকে মানুষ বাঘ হাবিব নামে চেনে।  হাবিব শরণখোলার সোনাতলা গ্রামের কদম আলী তালুকদারের ছেলে।

শুক্রবার (২৮ মে) রাতে বন অপরাধে বাঘ হাবিবকে গ্রেপ্তার করে শরণখোলা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পরই বাঘ হাবিবের অপরাধ কর্মকাণ্ড স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।  

বন বিভাগ ও থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী বাঘ হাবিবের নামে ৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বাঘ হত্যার দায়ে তিনটি, হরিণ হত্যার দায়ে ৫টি এবং বন অপরাধে আরও একটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় ওয়ারেন্ট ছিল হাবিবের নামে। হাবিব গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আসলে কতটি বাঘ হত্যা করেছে হাবিব এ বিষয়ে কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

সোনাতলা গ্রামের ইউপি সদস্য ডালিম হোসেন বলেন, গেল দশ বছর আমি ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার জানা মতে, হাবিব একজন সুন্দরবনের বন্য প্রাণি শিকারি। দীর্ঘদিন ধরে হরিণ শিকার করে এলাকার প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি করে আসছে। তার ছেলে হাসান হাওলাদার ও মেয়ের জামাতা মিরাজ ঘরামীও এই শিকারের সঙ্গে জড়িত। তবে দুই এক বছর ধরে শুনেছি হাবিব বাঘও হত্যা করেছে। তবে কি পরিমাণ বাঘ হত্যা করেছে তা স্পষ্ট করে বলতে পারি না। পুলিশ তাকে ধরার জন্য আমার সহযোগিতাও চেয়েছে। অনেকদিন ধরে হাবিব এলাকা ছাড়া ছিল। মাঝে মধ্যে গোপনে আসতো।

তবে বন বিভাগের দাবি সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্যপ্রাণি হত্যা ও পাচারের সাথে জড়িত হাবিবের গড ফাদারদের খুজে বের করতে বন বিভাগের ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

সুন্দরবন সুরক্ষায় নিয়োজিত কমিউনিটি পেট্রলিং গ্রুপের (সিপিজি) ভোলা টহল ফাঁড়ি ইউনিটের দলনেতা মো. খলিল জমাদ্দার বলেন, দুই বছর আগে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের লাঠিমারা এলাকায় বনের মধ্যে একটি বঘাকে মৃত ভেবে কাছে গেলে আক্রমনের শিকার হন হাবিব। ভাগ্যক্রমে বাঘের আক্রমন থেকে বেঁচে যায় হাবিব। এর পর থেকে এলাকার মানুষ তাকে বাঘ হাবিব বলে ডাকে।

তিনি বলেন, হাবিব একটু হাবাগোবা ধরনের মানুষ। তিনি আমার প্রতিবেশী। লোভে পড়ে সে কিছু বন্যপ্রাণি শিকার করেছে। কিন্তু আসলে সে কি পরিমাণ বাঘ ও হরিণ শিকার করেছে তা বলা যায় না।  আসলে বনের মধ্য থেকে বাঘ হত্যা খুবই কঠিন কাজ। হাবিবকে আমি অনেকবার বুঝিয়েছি যে, বনের কোন প্রাণি শিকার করা যাবে না। এরা আমাদের সম্পদ। এসব কথার মাঝে হাবিব একদিন আমাকে বলেছে সে ৩২টি বাঘ হত্যা করেছে। এরমধ্যে ১৯টি মা বাঘ। কিন্তু এসব বাঘ হত্যা করে কি করেছে তা কিছু বলেনি হাবিব।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন, হাবিব আসলে কতটি বাঘ হত্যা করেছে তা আমাদের জানা নেই। হাবিবের নামে ৩টি বাঘ হত্যার মামলা রয়েছে।  মামলার পরই সুন্দরবনে হাবিবের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। হাবিবের মত যারা সুন্দরবনের বন্যপ্রাণি হত্যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য আমাদের জোর প্রচেষ্টা চলছে।

বেলায়েত হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাঘের প্রত্যেকটি অঙ্গ প্রতঙ্গের উচ্চ মূল্য রয়েছে। যার ফলে একটি আন্তর্জাতিক চক্র বাঘের চামড়াসহ বিভিন্ন অঙ্গ পাচার ও ক্রয় বিক্রয়ের সাথে জড়িত রয়েছে।  এই চক্রটি প্রভাবশালীদের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা ও সুন্দরবনের জেলেদের ব্যবহার করে থাকে। আমরা বন বিভাগের ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান বলেন, বাঘ হাবিবের নামে শরণখোলা থানায় ৩টি ওয়ারেন্ট মুলতবি ছিল। তাকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সোর্সের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে আটক করে শনিবার (২৯ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাট/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়