নৌকার মাঝির জন্যই এই দুর্ঘটনা: প্রত্যক্ষদর্শী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
প্রত্যক্ষদর্শী জামাল মিয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লইস্কা বিলে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। নদীর পাড়ে বাতাসে ভাসছে স্বজনহারাদের হাহাকার।
শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় নৌকাডুবির সময় জামাল মিয়া (৫০) সে নৌকার ছাদে ছিলেন। তার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জে। পরিবার নিয়ে থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার কান্দিপাড়ায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে সরিষা থেকে তেল বানানোর মেশিন ফিটিংয়ের কাজ করেন জামাল। সরিষা মিলের কাজ করতে বিজয়নগর উপজেলার মুকুন্দপুরে কাজ শেষ করে সাড়ে চারটায় চম্পকনগর নৌকা ঘাট থেকে নৌকার ছাদে ওঠেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসার জন্য।
জামাল মিয়া নৌকার ছাদের ওপর থেকে কিভাবে নৌকাটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে সেই বর্ণনা দিতে গিয়ে শনিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রাইজিংবিডিকে বলেন, চম্পকনগর থেকে যখন লইস্কার বিলে আমাদের নৌকাটি প্রবেশ করে সেই সময় দূর থেকেই দুইটি বালুবাহি ট্রলার দেখতে পাই আমিসহ নৌকার ছাদে থাকা কয়েকজন। নৌকার মাঝিকে আমি বলি নৌকাটিতে যেন বাম পাশ দিয়ে নিয়ে যায় কিন্তু নৌকার মাঝি আমাদের কথা না শুনে ইচ্ছে মতো নৌকা চালিয়ে ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগিয়ে দেয়। ধাক্কা লাগার সাথে সাথেই আমি ঝাঁপ দিয়ে পানিতে পড়ে যাই। আমাদের নৌকাটিও ডুবে যায়। তখন আমি সাঁতরে উপরে ওঠার চেষ্টা করলে ট্রলারের দুইজন কর্মচারী আমাকে উপরে ওঠায়। আমি উপরে উঠে আরেকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করাই।
প্রত্যক্ষদর্শী জামাল মিয়া মনে করেন, নৌকার মাঝির ভুলের জন্যই এতগুলো প্রাণ হারাতে হয়েছে।
জামাল মিয়া আজো নৌকা ডুবিস্থলে এসেছেন। তিনি বলেন, চোখের সামনে মৃত্যুকে দেখেছি। কত মানুষের কান্নার আওয়াজ শুনেছি। তাই জায়গাটি আবার দেখতে আসলাম।
মাইনুদ্দীন রুবেল/টিপু