ভাঙা কালভার্টে হাজার মানুষের দুর্ভোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পানির স্রোতে কালভার্ট ভেঙ্গে গেছে প্রায় দুই বছর হল। কিন্তু এখনো ভেঙে যাওয়া কালভার্টি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।
বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা তিন দফায় চাঁদা তুলে কালভার্টির ভাঙা অংশে চলাচলের সুবিধার্থে কাঠ ও বাশের অস্থায়ী সেতু বানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটিও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এখন অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই মানুষ চলাচল করেছে। এতে উপজেলার দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ দুভোর্গ পোহাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের মরিচাকান্দি-শান্তিপুর সড়কের চরমরিচাকান্দি এলাকায় মেঘনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত একটি বিলের উপর কালভার্ট ছিল। ২০১৯ সালের শেষের দিকে পানির স্রোতে কালভার্টটি ভেঙ্গে যায়।
এই কালভার্ট ব্যবহার করেই সোনারামপুর ইউনিয়নের চরমরিচাকান্দি, বিলপা, সান্তিপুর, ইছাপুর, বালুরচর, রাজাপুর, শিবপুর, দৌলারামপুর, মরিচাকান্দি, কানাইনগর, ফেরাজিয়াকান্দি গ্রামের লোকজনকে মরিচাকান্দি-শান্তিপুর সড়কের উপর দিয়ে সোনারামপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং বাঞ্ছারমাপুর উপজেলায় যাতায়াত করেন।
নরসিংদী সদরের চরদিঘলদী ইউনিয়নের চারদিঘলদী, দোয়ানি, বারআনি, অনন্তরামপুর, জিন্তরামপুর, নোয়াবপুর, শান্তিপুর, আড়াইআনি গ্রামের লোকজনও এ সড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়াও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারাপুর ইউনিয়নবাসীকেও নরসিংদী যেতে হলে একই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালভার্ট ভাঙা অংশ এখনো অপসারণ করা হয়নি। ভাঙা অংশের উপর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী কালভার্ট তৈরি করা। সেতুর দুই পাশে ইজিবাইকের সারি। স্থানীয় কয়েকজন দড়ি দিয়ে বেঁধে বাঁশের টুকরা কালভার্ট উপর স্থাপন করছেন। তবে মানুষের চলাচল থেমে নেই। কয়েকটি মোটরসাইকেলকেও অস্থায়ী সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
চরমরিচাকান্দি, শান্তিপুর, ইছাপুর গ্রামের কয়েকজন লোক জানান, পানির স্রোতে কালভার্টটি ভেঙে গেলে স্থানীয়রা চাঁদা তুলে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরি করেছেন। কিন্তু কয়েকদিন পরপর বাঁশ ও কাঠ সরে যায়। কালভার্ট্ি না থাকায় বৃদ্ধ নারী-পুরুষ, ছোট শিশু ও বিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় দুই ইজিবাইক চালক বলেন, চান্দা তুইলা সেতুর উপর কাঠ ও বাঁশ দিছি। সেতু না থাকায় এপার থেকে ওই পাড়ে চলাফেরা করতে পারছি না। মালামাল নিতে পারছি না। দ্রুত সেতুটি মেরামত করা দরকার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজাপুর গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, কালভার্ট এলাকা দিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ট্রাক, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, মাইক্রােবাস, রিকশা চলাচল করতো কিন্তু গত এক মাস আগে অটোরিকশা চালক কালভার্ট ভেঙে অটোরিকশা'সহ নিচে পড়ে যায়। পরে ঘন্টাখানেক খুঁজাখুঁজির পর অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
তারা আরো জানান লাশ উদ্ধারের পর থেকে আর কোন গাড়ি কালভার্টি দিয়ে চলাচল করেনা।
সোনারামপুর ইউনিয়ন পরিষেদর চেয়ারম্যান খোদা শাহিন দাবি করেন, ৭০ হাজার টাকা খরচ করে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করেছেন। এখনও কাজ চলছে। সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা প্রকৌশলীকে বলেছি।
উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, সেখানে সেতু নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। কার্যক্রম চলছে। খুব দ্রুতই সেখানে সেতু নির্মাণ করা হবে।
মাইনুদ্দীন/মাসুদ
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় হামের টিকাদান শুরু হয়েছে