ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

১৫ বছরের নবীর কাঁধে সংসারের বোঝা

মাইনুদ্দীন রুবেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৯, ৩১ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৫:৩৩, ৩১ জানুয়ারি ২০২২
১৫ বছরের নবীর কাঁধে সংসারের বোঝা

নবীর হোসেন (১৫)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের মুক্তরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে। যে বয়সে কাঁধে থাকবে স্কুল ব্যাগ, সেই বয়সে কাঁধে তার সংসার চালানোর বোঝা। 

নবীর হোসেনের বাবা রফিকুল ইসলাম। বর্তমানে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন সদর পৌরসভার দাতিয়ারা মহল্লায়। এক বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে নবীর হোসেন বড়। বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সংসারের হাল ধরে সে। বাবা পাড়া-মহল্লায় বাড়ির কাজ করেন। মা ঘর সামলান। 

আরো পড়ুন:

আদালত প্রাঙ্গণে কথা হলে নবীর হোসেন বলে, ‘নবীনগর গ্রামের বাড়িতে থাকতে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ছি। পরে আমাদের বাড়ির গোষ্ঠীর সঙ্গে গ্রামের অন্য গোষ্ঠীর মারামারি অইলে বাবার নামে মামলা হয়। তাই গ্রাম ছাইড়া শহরে চইল্লা আইছি। পরে আর পড়ালেখা করতে পাড়ছি না। শহরে খরচ বেশি, সংসার চালাইতেও কষ্ট হয়। ছোট দেইক্ষা আমাদের কোথাও কাজেও নেই না মানুষে, এজন্য ঝালমুড়ি বেচি।’ 

সে আরও বলে, ‘ঝালমুড়ি বেইচ্চাই আমাদের সংসার চলে। আরেকটা ছোট ভাই আছে, নাম মোহাম্মদ মাহাবুব। সেও এখন পৌরশহরের অবকাশ পার্কে ঝালমুড়ি বেচে। আমি দিনে ৮০০ থেইক্কা ৯০০ টেহা ঝালমুড়ি বেচি। আমার ছোট ভাই আমার থেইক্কা বেশি টেহা বেচে। কিন্তু আমি আদালতের সামনেই ঝালমুড়ি বেচি। কারণ, আদালতের পুলিশ ও উকিলরা অনেক বেশি আদর করে আমারে। তারা সবাই আমার কাছ থেইক্কা ঝালমুড়ি খায়। খাইতে খাইতে আমার সাথে গল্প করে, এটা আমার খুব ভালা লাগে।’ 

নবীর হোসেন বলে, ‘অন্য জায়গায় বেচলে আরও বেশি টেহা বেচতে পারতাম কিন্তু পুলিশ আর উকিলরা আদর করে আমারে। এজন্য অন্য কোথাও যাই না। সব টেহাই বাপের হাতে দিয়ে দেই। সপ্তায় দুইদিন আদালত বন্ধ থাকে, সেই দু’দিন শহরের পুনিয়াউট ও কাউতুলি ঝালমুড়ি বেচি। বন্ধ দুইদিন পরিচিত পুলিশ আর উকিলদের অনেক বেশি মনে পড়ে।’

/মাহি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়