১৪ বছর পর মিনহাজ ফিরে এলেন বাড়িতে
এম এম আরিফুল ইসলাম, নাটোর || রাইজিংবিডি.কম
পরিবারের সঙ্গে সর্ব ডানে মিনহাজ
১৪ বছর আগের কথা। তখন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মাছ বিক্রি করতেন মিনহাজ আলী (৫০)। এভাবে একদিন ভুল করে ভারতের মধ্যে ঢুকে পড়েন। এরপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হন তিনি। বাড়িতে তখন তার স্ত্রী, ছোট দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এরপর ভারতে ৫ বছর কারাভোগ করেন তিনি। পরে ২০১৩ সালে সরকারের সহায়তায় ঢাকায় ফিরে এলেও তত দিনে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তাই আর বাড়িতে ফেরা হয়নি তার।
অবশেষে শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাড়িতে ফিরে আসেন মিনহাজ। এত বছর পর দেখা হয় ছেলেমেয়ে, ছেলেদের স্ত্রী ও মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে। খবর পেয়ে গ্রামের লোকজনও ভিড় করেন তাকে দেখতে। তবে দেখা হয়নি প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে। কী করে হবে! ২০০৮ সালে মিনহাজ আলী বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার দুই বছর পর ২০১০ সালে মারা যান তার প্রথম স্ত্রী নার্গিস বেগম।
মিনহাজ আলী নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাকা ইউনিয়নের চকতকিনগর গ্রামের নওশের ফকিরের ছেলে।
মিনহাজ আলী বলেন, লেখাপড়া জানি না। ২০০৮ সালে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর এলাকায় মাছ বিক্রি করতে গিয়ে ভুলে ভারতের মধ্যে ঢুকে পড়ি। এরপর বিএসএফের হাতে ধরা পড়লে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরিবার থেকে কেউ খোঁজখবর না নেওয়ায় কারাগারে থাকতেই আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। ৫ বছর কারাভোগ করে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে ছাড়া পাই। এরপর ঢাকায় ফিরে আসি। কিন্তু ততদিনে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলি। ভুলে যাই বাড়ির কথা। এরপর ঢাকায় নির্মাণশ্রমিকের কাজ শুরু করি। কিছু টাকাপয়সা জমানোর পর আবার বিয়ে করি। সেই ঘরে আসে দুই ছেলে।
সম্প্রতি গ্রামের এক পরিচিত লোকের সঙ্গে দেখা হয় মিনহাজের। এরপর একে একে তার বাড়ির সব কথা মনে পড়ে। ওই লোকের মাধ্যমে জানতে পারেন তার প্রথম স্ত্রী নার্গিস বেগম মারা গেছেন। তাদের আগের দুই ছেলে ও এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা আগের বাড়িতেই বাস করছেন। এরপর শনিবার দুপুরে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ও সেই ঘরের দুই ছেলেকে সঙ্গে করে বাগাতিপাড়ায় নিজ বাড়িতে আসেন।
বিকালে মিনহাজ আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার দ্বিতীয় স্ত্রী, আগের ঘরের মেয়ে ও জামাই, দুই ছেলে ও তাদের স্ত্রী এবং বর্তমান স্ত্রী ও দুই ছেলে, সবাই গল্প করছেন। আগের ঘরের সন্তানেরা তাকে পেয়ে খুব খুশি।
বড় ছেলে শান্ত আলী বলেন, আমার বয়স যখন ৮ বছর, তখন বাবা হারিয়ে যান। মা তাকে খুঁজে পেতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আমরা অনেক খুঁজেও বাবার খোঁজ পাইনি। হারিয়ে যাওয়ার দুই বছরের মাথায় মা মারা যান। পরে আমরা ধরেই নিয়েছি বাবা মারা গেছেন। এখন হঠাৎ করে বাবাকে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আগের মতো আমরা আবার একসঙ্গে থাকতে চাই।
প্রতিবেশী আবদুল মালেক বলেন, মিনহাজ যে বেঁচে আছে এবং সে বাড়িতে ফিরে আসবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। বিদেশে থাকলেও তো ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা হয়। মিনহাজের সঙ্গে কারও কোনো যোগাযোগই হয়নি এত দিন। শুনেছি ওর মাথায় সমস্যা হয়েছিল। হয়তো সেই কারণে সে বাড়ির সবার কথা ভুলে গিয়েছিল। এখন সে বাড়িতে ফিরে আসায় আমরা গ্রামবাসীও খুশি।
/মাহি/
চার বছরে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী