ঢাকা     সোমবার   ০৪ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২০ ১৪২৯ ||  ০৪ জিলহজ ১৪৪৩

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা সেতু বুঝিয়ে দিলো কর্তৃপক্ষকে

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:২৭, ২৩ জুন ২০২২   আপডেট: ০৮:৫৩, ২৩ জুন ২০২২
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা সেতু বুঝিয়ে দিলো কর্তৃপক্ষকে

পদ্মা সেতু

২৫ জুন সকাল ১০ টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন। এ উদ্বোধনকে ঘিরে সংশ্লিষ্টরা ব্যস্ততার শেষ সময় পার করছেন। দিন-রাত ২৪ ঘন্টা চলছে প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞ।

এর মধ্যে বুধবার (২২ জুন) সেতুর নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ করা হয়েছে। এবং সেতু বিভাগকে তা বুঝিয়ে দিয়েছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

রাত ১২ টার দিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, পদ্মা সেতুর শতভাগ কাজ শেষ করে ঠিকাদার কোম্পানি সেতুটি বুঝিয়ে দিয়েছে সেতু বিভাগকে। তবে এরপরও এক বছর তারা ‘ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড’ এর কাজ করবে।

এর আগে, শুক্রবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় পরীক্ষামূলকভাবে টোল দিয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের কয়েকটি গাড়ি পার হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাওয়া প্রান্তের টোলপ্লাজায় টোল দিয়ে সেতু প্রকল্পের গাড়িগুলো পদ্মা সেতু পার হয়। তবে দেশের পরিবহনগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার না থাকায় সনাতন পদ্ধতিতে টোল দিয়েই সেতু পার হতে হবে বলে জানিয়েছে তিনি।

এছাড়া, গত মঙ্গলবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সবগুলো ল্যাম্পপোস্টের বাতি একসঙ্গে আলো প্রজ্বলন করা হয়। এতে পুরো পদ্মা সেতু আলো ঝলমলে হয়ে ওঠে। রাতের আঁধার নেমে আসতেই সড়কবাতির ঝলকে আলোকিত হয়ে ওঠে খরস্রোতা-প্রমত্তা পদ্মা সেতুসহ চারপাশ।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের আরও জানান, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে এই প্রথম সেতুর উভয়প্রান্তে সবগুলো ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বালানো হয়েছে। এর আগে কয়েকটি ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে জেনারেটরের মাধ্যমে বাতিগুলো জ্বালানো হয়েছিল।

এদিকে, দেশের সামর্থ্য ও সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত এই সেতু শনিবার (২৫ জুন) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের দিন সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে এসে উপস্থিত হবেন।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন ও সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি। পরবর্তীতে সেখান থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর অংশে দলীয় একটি জনসভায় অংশ নেবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতিও শেষের দিকে। বিদেশি কুটনীতিকসহ দেশ বরেণ্য সুধীজনরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। সমাবেশের দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ তৈরিসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা। পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। 

এদিকে, শুক্রবার (২৪ জুন) সকাল থেকে রবিবার (২৬ জুন) পর্যন্ত পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত সড়ক ও মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান এবং ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ ও পুলিশ। ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপপুলিশ কমিশনার ফারুক হোসেন এক বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, শনিবার (২৫ জুন) পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ২৪ জুন সকাল হতে ২৬ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান এবং ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এ জন্য ঢাকা মহানগরী এলাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়াগামী কাভার্ডভ্যান এবং ট্রাকসমূহকে আগামী ২৪ জুন সকাল হতে ২৬ জুন সকাল পর্যন্ত পাটুরিয়া দৌলতদিয়া এবং চাঁদপুর-শরীয়তপুর রুটে ফেরিতে চলাচলের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর।

একই সাথে চলতে থাকে রোডওয়ে, রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো সহ অন্য কাজ। সেতুর মূল আকৃতি দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

রতন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়