ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

লইস্কা বিলে নৌকাডুবে ২৩ মৃত্যু: এখনও নিরাপদ হয়নি সেই নৌপথ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ২৭ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২০:৩৭, ২৭ আগস্ট ২০২২
লইস্কা বিলে নৌকাডুবে ২৩ মৃত্যু: এখনও নিরাপদ হয়নি সেই নৌপথ

এক বছর আগে ২৭ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার তিতাস নদীর লইস্কা বিলে নৌকাডুবির ঘটনায় ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার এক বছর পার হলেও নদী পথে যাত্রীদের চলাচল নিরাপদ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। জেলার নদীপথে নৌপুলিশ ও কর্তৃপক্ষের তদারকি নেই। জেলা ডুবুরি দলের ইউনিটও নেই।

আরো পড়ুন:

১৯৬৭ সাল থেকে বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া নদীপথে নৌযান চলাচল করে। আষাঢ় থেকে কার্তিক— পাঁচ মাস এই পথে পানি থাকে বলে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে নৌযান চলাচল করে। তবে রাতে নৌযান চলাচলের অনুমতি নেই।

স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার তিতাস নদীর লাইস্কা বিলে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে ২৩ জন মারা যায়। দুর্ঘটনার ৪১ ঘণ্টা পর ডুবে যাওয়া নৌকা উদ্ধার করা হয়। নৌকাডুবির ঘটনায় সাতজনের নামে মামলা হয়। মামলার আসামি সাত জনের মধ্যে বালুবাহী বাল্কহেডের মাঝি সরাইলের জমির মিয়া (৩৩), তার সহযোগী রাসেল (২২) ও খোকন মিয়া (২২), বাল্কহেডের মালিক সোলাইমান (৬০) এবং পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া অন্য বাল্কহেডের সহযোগী বিজয়নগর উপজেলার মিষ্ঠু মিয়াকে (৬৭) গ্রেফতার করে পুলিশ। এই পাঁচজন নিজেদের দোষ স্বীকার করে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। দুই বাল্কহেডের মাঝি, সহযোগী ও মালিকেরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাত্রীবাহী নৌকাটি দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। বাঁ দিকে মোড় নেওয়ায় ধাক্কা লাগে। তবে বাল্কহেড ও বাল্কহেডের মাঝির নিবন্ধন নেই বলেও জানান তারা। 

নৌকাডুবির ঘটনার পরপর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। ঘটনার পরের দিন তদন্ত কমিটির সদস্যরা স্থানীয় ১২ থেকে ১৩ জনের সাক্ষ্য নেন। ডুবে যাওয়া নৌকার নিবন্ধন ও সার্ভে সনদ এবং এমনকি রুট পারমিটও ছিল না বলে জানান তারা। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৫১৭ কিলোমিটার নৌপথ আছে। বর্যাকালে এই ৫১৭ কিলোমিটার নৌপথ দিয়ে লঞ্চ, ট্রলার, নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করে। শীত মৌসুমে জেলার নদীগুলোর মধ্যে ৩০-৪০ শতাংশ এলাকায় পানি থাকে এবং নৌযান চলাচল করে।

স্থানীয়রা জানান, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নাসিরনগর, সরাইল, বিজয়নগর, নবীনগর, আশুগঞ্জ ও বাঞ্ছারামপুর নদীবেষ্টিত। বর্ষাকালে এসব উপজেলার মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা এবং উপজেলা থেকে জেলা শহরে নৌপথে যাতায়াত করে। প্রতি বছর নৌপথের বিভিন্ন স্থানে নৌ দুর্ঘটনা ঘটছে। সাধারণত নৌকা বা ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এগিয়ে আসে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ডুবুরি দল না থাকায় নৌদুর্ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ ও নারায়াগঞ্জ থেকে ডুবুরি দলকে ডাকা হয়। এতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। নিখোঁজ মানুষের লাশ উদ্ধার করতে অনেক সময় লেগে যায়। 

তারা বলেন, ২৭ আগস্ট নৌকাডুবির ঘটনার পরপর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা যায়নি। পরে কিশোরগঞ্জের নিকলী থেকে ফায়ার সার্ভিস এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে ডুবুরি দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরদিন সকাল ৮টার দিকে উদ্ধার অভিযান চালায়। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আবদুর সামাদ বলেন, ‘জেলায় ডুবুরি দলের ইউনিট নেই। তবে গত বছর নৌকাডুবির ঘটনার পরপর আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মহাপরিচালকে কাছে ডুবুরি দলের ইউনিটের জন্য আবেদন করেছিলাম।’ 

আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নদী বন্দরের উপপরিচালক রেজাউল করিম বলেন, তিনি এখানে যোগ দেওয়ার পর আনন্দবাজার ও বিজয়নগর ঘাটে নৌকায় বয়া, বাতি, লাইফ জ্যাকেট না থাকা ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের বিরুদ্ধে তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য যা যা করা দরকার, সবই করা হচ্ছে। তবে একটু সময় লাগবে।
 

রুবেল/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়