ঢাকা     বুধবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৯ ||  ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

পুলিশের সহায়তায় সন্তান জন্ম দিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৫:২০, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২
পুলিশের সহায়তায় সন্তান জন্ম দিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী

প্রসব বেদনায় রাস্তার পাশে কাতরাতে থাকা এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছেন শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি ওই নারীর প্রসব পরবর্তী চিকিৎসা ও নবজাতকের দেখভালের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। 

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুমকি নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক গর্ভবতী নারী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের পুরান বাজার রাস্তার পাশে পড়ে ছিলেন। প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল তিনি। বৃষ্টির মধ্যে গর্ভবতী নারীর এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির। তিনি গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার করে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে। নিজেই ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই সঙ্গে ওই নারীর দেখাশোনার জন্য আরেকজন নারীকে নিয়োজিত করেন। ব্যবস্থা করেন ওষুধ ও পোশাকসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাতে চুমকির প্রসব বেদনা শুরু হয়। এসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে হুমায়ুন কবির ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চুমকিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এসময় তার সাথে ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার এসআই আমিনুল ইসলাম ও এএসআই ইলিয়াস উদ্দিন সোহেল।

হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রচেষ্টায় চুমকি ফুটফুটে এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে চুমকি ও তার নবজাতক শিশু সুস্থ আছেন বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন। 

একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সাহায্যে পুলিশের এমন ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সাধারণ মানুষজন।

ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে পড়ে এক গর্ভবর্তী কাতরাচ্ছেন বলে খবর আসে। ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশের গাড়িতে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে ২০ মিনিটের মধ্যে ওই নারী একটি নবজাতকের জন্ম দেন।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘অনেকেই শিশুটি দত্তক নিতে চাচ্ছেন। আইনীভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা করা হবে।  মা ও ছেলে সুস্থ আছেন।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কামরুন নাহার বলেন, ‘মা ও নবজাতক ভালো আছে।’

এর আগে করোনাকালীন শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ক্ষুধার্ত মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছানোর কর্মসূচি পালন করে সাধারণ মানুষের প্রশংসা অর্জন করে।

হামিদ/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়