ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

রাজশাহী শহরটাই যেন ফুলের বাগান

শিরিন সুলতানা কেয়া, রাজশাহী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২২, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৯:২৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
রাজশাহী শহরটাই যেন ফুলের বাগান

কাঠফাটা রোদে গাছের পাতা ঝলসে যাওয়ার উপক্রম। কিন্তু পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে আছে তরতাজা কাঠগোলাপ। সফেদ এ ফুল শোভা বাড়াচ্ছে রাজশাহী শহরের। শুধু কাঠগোলাপই নয়; চেরি, টগর, মিনজিরি, শিউলিসহ নানা ফুল ফুটে আছে শহরের সড়ক বিভাজকে। শহরের সড়কে সড়কে নানা ফুলের এমন শোভা থাকে সারা বছরই।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) শহরের সড়ক এভাবে ফুলে ফুলে সাজিয়ে রাখছে। প্রকৃতিতে প্রতিটি ঋতু নিয়ে আসে নানারকম ফুলের বাহার। পঞ্জিকার পাতায় এখন আশ্বিন মাস। ঋতুর রাণী শরৎ। এখন ফুটেছে শরতের শিউলি, ছাতিমসহ নানা ফুল। বর্ণিল এসব ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন নগরবাসী। পথচারীদের এই ফুলগুলো দিচ্ছে মানসিক প্রশান্তি।

সিটি করপোরেশনের হিসাবে, নগরীর প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়কের আইল্যান্ডজুড়ে শোভা পাচ্ছে রং-বেরং এর ফুল। রাস্তায় বের হলে চোখে পড়বে হরেক রকমের ফুল। শহরের প্রতিটি রাস্তার ফুটপাত, সড়ক বিভাজন, আইল্যান্ডে বছরজুড়ে ফুটছে ফুলগুলো। কখনো লাল কৃঞ্চচুড়া, কখনও হলুদ সূর্যমুখী কিংবা বেগুনি জারুল মন কাড়ছে পথচারীদের।

নগরীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক আলুপট্টি থেকে তালাইমারির আইল্যান্ডজুড়ে রয়েছে রক্তকরবী, বাগানবিলাস, রঙ্গন, বেগুনি নার্গিস, মাধবীলতা ও বকুল। বিমানচত্বর থেকে বিহাসপল্লীর সাত কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে শোভা ছড়াচ্ছে পাম, কাঠগোলাপ, চেরি ও টগর। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে আছে কৃঞ্চচূড়ার গাছ। আর কিছুদিন পর রঙিন হয়ে উঠবে গাছগুলো।

নগরীর বর্ণালী মোড় থেকে টমটম চত্বর পর্যন্ত মানুষকে মুগ্ধ করছে রঙ্গন। বহরমপুর থেকে কোর্ট স্টেশনের শোভা বাড়াচ্ছে গৌরিচূড়া ও রঙ্গন। কোর্ট স্টেশন থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত রয়েছে করবী ও টগর। শহরের ভদ্রা থেকে তালাইমারী সড়কের আইল্যান্ডে শোভা পাচ্ছে বাগানবিলাস, অ্যালোমুন্ডা ও কলাবতি গাছ। কাশিয়াডাঙ্গা থেকে বহরমপুর প্রজাপতি সড়কে সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে সূর্যমুখী। এ ছাড়া গৌরিচোরা, রঙ্গন, টগরের দেখা মেলে এই রাস্তায়।

কোর্ট চত্বর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় ভরে আছে টগর ও করবী ফুলে। নগরীর টমটম চত্বর থেকে নগর ভবন মোড় পর্যন্ত দেখা মিলবে কাঠগোলাপ ও ডেইজ ফুলের। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর থেকে টমটম চত্বর পর্যন্ত  সোনালু, জারুল, জাকারান্দা এবং কাঠগোলাপের সমাহার।

রাসিক জানিয়েছে, ২০২০-২১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ৫০ হাজার ২৭১টি গাছ লাগানো হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪৩ হাজার ৩৮০টি গাছ লাগানো হয়। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০ হাজারের উপরে গাছ লাগানো হয়েছে। প্রতিদিন গাছে ট্যাংকার ট্রাকের মাধ্যমে পানি দেওয়া হচ্ছে।

সড়কে সড়কে থাকা এসব ফুল দেখে বিমোহিত হচ্ছেন অন্য জেলা থেকে পদ্মাপাড়ের এই শহরে বেড়াতে আসা মানুষেরা। কর্মশালায় অংশ নিতে রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী এসেছেন চট্টগ্রাম ও সিলেট সিটি করপোরেশন ও ১১টি পৌরসভার কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তারা। প্রথম দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তারা শহর ঘুরে দেখতে বেরিয়ে পড়েন।

রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি রাজশাহীকে বদলে দিয়েছেন। রাজশাহী নগরীর সুনাম এখন দেশজুড়ে। কেন এত সুনাম সেটা শহর ঘুরেই বুঝতে পারলাম।’

কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহানা আকতার বলেন, ‘রাজশাহীর পরিবেশ এত সুন্দর, এত পরিচ্ছন্ন ও ঝকঝকে শহর। আগে শুধু শুনেছি রাজশাহীর কথা, আজকে নিজে এসে দেখলাম। সত্যিই অনেক পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর রাজশাহী। সড়কে সড়কে ফুলের কারণে মন ভরে যাচ্ছে।’

মৌলভীবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র নাহিদ হোসেন বলেন, ‘রাজশাহীতে সত্যিকার অর্থে ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি। দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো রাজশাহীকে দেখে অভিজ্ঞতা নিতে পারে। রাজশাহীর এই অভিজ্ঞতা দেশজুড়ে ছড়িয়ে যাক-এটি আমরা চাই।’

বগুড়া পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘একজন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহীকে বদলে দিয়েছেন। রাজশাহীর এই বদলে যাওয়াতে সবাই মুগ্ধ। গোটা শহরটাই যেন একটা ফুলের বাগান।’

রাসিকের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদ-উল-ইসলাম বলেন, ‘রাসিকের জিরো সয়েল্ট প্রকল্পের আওতায় শহরে কয়েকবছর আগে ফুলের গাছ লাগানো শুরু হয়। আমাদের এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য— শহরের কোনো জায়গাতেও শুকনো মাটি থাকবে না। প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় সবুজায়নের জন্য গাছ লাগাতে হবে। এতে সৌন্দর্যের পাশাপাশি পরিবেশের ভারস্যাম্য বজায় থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাসিকের নিজস্ব নার্সারি থেকে চারা এনে বিভিন্ন রাস্তায় গাছ লাগানো হচ্ছে। এ গাছগুলো পরিবেশের জন্য ভালো। গবেষণায় যে গাছগুলো ক্ষতিকর দেখা গেছে, সেগুলো লাগানো হচ্ছে না। ফলে এই গাছগুলো থেকে পরিবেশের উপকার হচ্ছে। সৌন্দর্য বাড়ছে।’
 

/বকুল/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়