ঢাকা     রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

পাত্রী দেখতে গিয়ে ১০ দিন আগে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি  

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫৮, ৮ মে ২০২৩  
পাত্রী দেখতে গিয়ে ১০ দিন আগে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি  

কক্সবাজারের টেকনাফে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে ১০ দিন আগে জমির হোসেন রুবেল (৩৫) নামের এক লবণ ব্যবসায়ী ও তার দুই বন্ধু অপহরণ হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে সোমবার (৮ মে) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন রুবেলের পরিবার।

অপহৃত রুবেল কক্সবাজারের চৌফলদন্ডী উত্তরপাড়ার মো. আলমের ছেলে।

আরো পড়ুন:

অপহৃত অন্য দুইজন হলেন- রুবেলের বন্ধু ইমরান ও ইউসুফ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল রুবেল বন্ধুদের সঙ্গে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে টেকনাফ যান। এসময় তার দুই বন্ধুও সঙ্গে যান।উপজেলার রাজারছড়া ফরেস্ট অফিস নামক স্থান থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। পরে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় অপহরণকারীরা তিনজনকে নির্যাতন করার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরিবারের কাছে পাঠায়।

অপহৃত রুবেলের ছোট বোন সুমি আক্তার বলেন, ‘গত ২৮ এপ্রিল আমার ভাই পাত্রী দেখতে তার বন্ধু ইমরান ও ইউসুফকে নিয়ে টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। তারা রাজারছড়া ফরেস্ট অফিস নামক স্থানে পৌঁছালে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা মিলে তাদের অপহরণ করেন। এর পরের দিন সকাল ১১টার দিকে ভাইয়ের মোবাইল নম্বর থেকে নাম না জানা এক ব্যক্তি ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন এবং ভাইয়া ও তার বন্ধুদের মারধরের ভিডিও পাঠান। আমরা টেকনাফ থানা, কক্সবাজার থানা এবং র‌্যাব-১৫-কে এই বিষয়ে অবগত করি। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি।’

অপহৃত রুবেলের মা লেবাজ খাতুন  বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। মুক্তিপণের এতো টাকা কীভাবে দেবো? আমার ছেলে আজ ১০ দিনের বেশি হলো নেই। ওকে নির্যাতন করছে অপহরণকারীরা। ৫দিন ধরে মোবাইল বন্ধ। আমার মন মানছে না। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

রুবেলের মেয়ে জয়া মনি বলেন, ‘প্রথমে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরে সেই টাকা কমতে কমতে ১০ লাখ টাকার মধ্যে আসে। অপহরণকারী ১০ লাখ টাকা দিলে আমার বাবাকে ছেড়ে দেবে বলে জানায়। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। আমাদের কাছে টাকা নেই। পৃথিবীতে আমার বাবা ছাড়া আমাদের কেউ নেই। আমরা আমাদের বাবাকে ফিরে পেতে চাই।’

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘বর্তমানে অপহরণ ইস্যুটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এটা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এ রকম ঘটনা যদি ঘটে থাকে তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তারেকুর/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়