ঢাকা     শুক্রবার   ০১ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৭ ১৪৩০

কক্সবাজারের আসন জোটকে ছাড়তে নারাজ আওয়ামী লীগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ২২ নভেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৫:০৬, ২২ নভেম্বর ২০২৩
কক্সবাজারের আসন জোটকে ছাড়তে নারাজ আওয়ামী লীগ

সাবেক সংসদ সদস্য এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ

একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে কক্সবাজারের ৪টি আসন-ই পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। এবারও দলের মনোনয়ন চেয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও অন্তত ৪০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। মহেশখালী ও কুতুবদিয়া ছাড়া বাকি তিন আসনে দুই ডজন নেতা নৌকা চেয়েছেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া ও পেকুয়া) আসন আওয়ামী লীগ জোটগত কারণে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ছেড়ে দেয়। আবারও এই আসনটি জোটের শরিকরা ভাগ বসাতে চায়। এবার আলোচনায় এসেছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম মেম্বার সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ।

তবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, চকরিয়া ও পেকুয়ায় জেপির সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। এরশাদের আমলে ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯০ সালের পর থেকে তিনি ভোটের মাঠে নেই। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে সহজে মেনে নেবেন না।

২০১৮ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ৪৫ বছর পর জাফর আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত পাঁচ বছরে তার বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখল, দলীয় নেতাদের নির্যাতন, চিংড়ি ঘের দখলসহ নানা অভিযোগ উঠে। দলের একটি বড় অংশ তাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য তৎপর রয়েছে।

এক সময় বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনটি জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রভাব রয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে এখানে সালাহউদ্দিন ও তার স্ত্রী টানা তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, বিএনপির দুর্গ ভাঙতে আবারও এ আসনে জোটের নয়, দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। 

১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সালের তিনটি নিবার্চনে এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি মনোনয়ন পেয়ে নিবার্চন করে হেরে যান। তিনি এবারও মনোনয়ন চেয়েছেন।

এ আসনে নতুন মূখ সাবেক জেলা জজ আমিনুল হক। তিনি বেশ কিছু দিন ধরে মাঠে-ময়দানে কাজ করছেন। নৌকা চেয়ে তিনিও মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। মনোনয়নের দৌঁড়ে আমিনুল হকও বেশ আলোচনায় আছেন।  

এ ছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, জেলা আ্ওয়ামী লীগ নেতা এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, রাশেদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম সজীব দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ফরম জমা দিয়েছেন।

গত ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে সফরে এসেছিলেন। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার-দোহাজারী রেলপথ ও আইকনিক রেল স্টেশন, মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ১৪টি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। বিকেলে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন।

জনসভায় চার আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নজর কাড়তে ব্যাপক লোক সমাগম, সড়কে তোরণ, ফেস্টুনসহ নানা প্রচারণা চালায়। এই জনসভায় কক্সবাজার-২ (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া) আসনের দুই বারের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিককে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের হাতে তুলে দেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সব আসনেই একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। দলের মনোনয়ন বোর্ড যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই তার পক্ষেই কাজ করবে। সবার আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। তিনিই বিবেচনা করবেন।’
 

তারেকুর/বকুল

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়