ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৬ ১৪৩০

অবরোধকারীদের ককটেল হামলা: দৃষ্টি হারানোর শঙ্কায় বাসার

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ২৯ নভেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৯:১১, ২৯ নভেম্বর ২০২৩
অবরোধকারীদের ককটেল হামলা: দৃষ্টি হারানোর শঙ্কায় বাসার

রাজশাহীতে অবরোধকারীদের নিক্ষেপ করা ককটেলে বিস্ফোরণে চোখ হারাতে বসেছেন আবুল বাসার (৩০) নামের এক ব্যক্তি। বুধবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে মহানগরীর রেলগেট এলাকায় অটোরিকশা লক্ষ্য করে ককটেল হামলা হলে আহত হন তিনি। এতে তার বাঁ চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আহত বাসার পেশায় রেলওয়ের একজন খালাসী। তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেলগেট এলাকায় অবরোধের সমর্থনে ২০-২৫ জন যুবক মিছিল বের করেন। মিছিলটি কিছুদূর গিয়েই শেষ হয়। মিছিলের পরপরই দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। একটি ককটেল গিয়ে পড়ে চলন্ত অটোরিকশায়। এতে অটোরিকশাটির সামনের কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়। আহত হন চালক আবদুল জলিল (৪৫) ও তার পাশে বসে থাকা যাত্রী আবুল বাসার। জলিলের পেটে গুরুতর জখম হয়েছে। বাঁ চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাসারের। ঘটনার পর আহত দুজনকে স্থানীয়রা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসারের চোখের অস্ত্রোপচার চলে। 

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহম্মদ জানান, বাসারের বাঁ চোখে ছোট ছোট কাঁচের টুকরা ঢুকে গেছে। চোখের আইবল, বিভিন্ন লেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অস্ত্রোপচার করে কাঁচ বের করার পাশাপাশি লেয়ার জোড়া লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রোগীর চোখ এখন বন্ধ। তার এই চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা খুব কম।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, বাসার রেলওয়ের একজন খালাসী। হাসপাতালে রেলওয়ের লোকজন আছেন। তার সর্বোচ্চ চিকিৎসার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর আমি তাকে দেখতে হাসপাতালে যাব।

বাসারের স্ত্রী শাহানাজ পারভীনের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি জানান, মেহেরপুরের গাংনী থেকে তারা ট্রেনে রাজশাহী আসেন। স্টেশনে নামার পর অটোরিকশায় চড়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে যাচ্ছিলেন। তিনি অটোরিকশার পেছনে বসে ছিলেন। স্বামী বাসার ছিলেন সামনে। তিনি অন্যদিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে সামনে তাকিয়ে দেখেন, তার স্বামী চোখে হাত দিয়ে পড়ে গেছেন। অটোরিকশার চালক জলিলেরও সারা শরীরে কাঁচ ঢুকে গেছে। পেটে মারাত্মক জখম হয়ে পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায় তার।

ঘটনার পর স্থানীয়রা তিন জনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরা হলেন- রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার টিটু (২৭), বিনোদপুর এলাকার মনিরুল (২৭) ও গোদাগাড়ীর শাহাদত (২৭)। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও তিন জনকে আটক করে।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক ছয় জনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহীর আদালত চত্বরে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর আদালত চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ায় প্রশাসন।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হক জানান, আদালত চত্বরের সীমানা প্রাচীরের বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। ককটেলটি পুলিশের গাড়ির পাশে বিস্ফোরিত হয়। এতে কোন পুলিশ সদস্য আহত না হলেও এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী কিছুটা আহত হন।
 
ওসি জানান, ককটেল হামলা চালিয়েই মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে। তাই কাউকে আটক করা যায়নি। অবরোধের সমর্থনে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হবে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

কেয়া/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়