ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

স্বামীর সঙ্গে তর্ক: বাসচালককে পেটানোর অভিযোগ সার্কেল এসপির বিরুদ্ধে

নওগাঁ প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪৭, ৬ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২২:১০, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
স্বামীর সঙ্গে তর্ক: বাসচালককে পেটানোর অভিযোগ সার্কেল এসপির বিরুদ্ধে

ভুক্তভোগী বাসচালক

নওগাঁর সাপাহারে সিটবিহীন টিকিটে স্বামীর বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে এক বাসচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে। রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাপাহার সার্কেল অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি বাসে ধানসুরা যাওয়ার পথে বাসচালক ও সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্কে জড়ান শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, জয়ন্ত বর্মণ সিটবিহীন টিকিট কেটে বাসে উঠেন। দিঘার মোড় এলাকায় পৌঁছালে ওই সিটটি রাজশাহীগামী যাত্রীর জন্য নির্ধারিত বলে তাকে উঠে যেতে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার সিয়াম। এ সময় নিজেকে সার্কেল এসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে জয়ন্ত বর্মণ হুমকি দিতে থাকেন। পরে বাসচালক বাদলের সঙ্গেও তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ধানসুরায় নামার সময় চালক ও সুপারভাইজারকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে চলে যান জয়ন্ত। পরে শ্যামলী রানী বর্মণ সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে বাসচালক বাদলকে ফোন করেন এবং চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি দেন। যাত্রাপথে একাধিকবার ফোন আসায় বাসটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে রাজশাহীতে পৌঁছায়।

রাত ১০টার দিকে বাসটি পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালক বাদলকে বাসস্ট্যান্ড থেকে সার্কেল অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর শ্যামলী রানী বর্মণ তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে প্রথমে লাথি মারেন। পরে তার স্বামী জয়ন্ত বর্মণও মারধরে অংশ নেন। একপর্যায়ে শ্যামলী রানী বর্মণের নির্দেশে তার দেহরক্ষী আনন্দ বর্মণ এসএস পাইপ দিয়ে চালককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

ভুক্তভোগী বাদল জানান, জ্ঞান হারানোর পর তাকে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি বাসায় বিশ্রামে আছেন।

বাসচালক বাদল বলেন, “এএসপি ম্যাডাম ও তার স্বামী আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে শরীরের গোপন জায়গায় আঘাত করেছেন। বডিগার্ডকে দিয়ে পাইপ দিয়ে পেটানো হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। শ্রমিক বলে আমরা কি মানুষ না?”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্কুলশিক্ষক নাসির বলেন, “নিজেকে সার্কেল এসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে যে ভাষায় হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা শাস্তিযোগ্য। ফোনে এএসপি নিজেও হুমকি দিয়েছেন।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী, রাজশাহী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সজীব বলেন, “স্ত্রীর ক্ষমতা দেখিয়ে খুবই বাজে আচরণ করেছেন জয়ন্ত বর্মণ। বাসের ভেতর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”

ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, “একজন সার্কেল এসপি বাসচালককে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছেন এতে শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে তাকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ বলেন, “ড্রাইভার ও সুপারভাইজারকে অফিসে ডাকা হয়েছিল। ড্রাইভার এসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কাউকে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। এসব গুজব।”

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “সার্কেল এসপি কাউকে মারধর করেছেন এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। কেউ মারধরের শিকার হয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন।”

ঢাকা/সাজু/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়