এক টাকা ঘুষ নিয়েছি প্রমাণ করতে পারলে চাকরি ছেড়ে দেব: সিলেটের ডিসি
সিলেট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
সেই সঙ্গে এসব অভিযোগকে ‘ভয়ংকর ফেক নিউজ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এক টাকা ঘুষ নিয়েছি প্রমাণ করতে পারলে চাকরি ছেড়ে দেব।’’
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘‘দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে—এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।’’
তিনি বলেন, ‘‘সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, বিদেশি কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় যাচাই করা হয়। এর মধ্যে, একজন প্রার্থী বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর পক্ষে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য কোনো ডকুমেন্ট জমা দিতে পারেননি।’’
সারওয়ার আলম বলেন, ‘‘নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা হোম অফিসের স্বীকৃত ডকুমেন্ট অথবা বাংলাদেশ হাই কমিশনের রসিদ প্রয়োজন হয়। এসব নথি না পাওয়ায় আইন অনুযায়ী মনোনয়ন বাতিল করা ছাড়া প্রশাসনের কোনো বিকল্প ছিল না। এখানে পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নই আসে না।’’
১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এত টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকা ঘুষ দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে; আমি নিজেই চাকরি ছেড়ে দেব এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব।’’
জেলা প্রশাসক অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, প্রশাসন যেকোনো মূল্যে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। তিনি সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের প্রতি ফেক নিউজে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা/রাহাত/রাজীব