বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ মিল মালিকদের
বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল কাবির খানের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নীতিমালা লঙ্ঘন ও মিল মালিকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে বাংলাদেশ অটো, মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে প্রতিকার চেয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর সংগঠনের প্যাডে সভাপতি এটিএম আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক ছাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের স্বাক্ষরে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইফুল কাবির চলতি আমন মৌসুম উপলক্ষে গত ৯ ডিসেম্বর বগুড়া খাদ্য ভবনের হলরুমে চালকল মালিকদের উপজেলা ও ইউনিট পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ডেকে প্রকাশ্যে অর্থ দাবি করেন। বিভাজনকৃত বরাদ্দের চাল মিলারদের কাছ থেকে কেনার চুক্তি বাবদ প্রতিটন চালের বিপরীতে ৫০ টাকা করে তার দপ্তরে জমা দিতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সরকারের সঙ্গে করা চুক্তির ফাইল টেবিল পারাপারের জন্য ফাইল প্রতি ২০০ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া চুক্তিকৃত চাল সরকারি গুদামে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে প্রতিটনের জন্য ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তাকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তার এই অবৈধ দাবি সমর্থন করে বগুড়া সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম এটি বাস্তবায়নের জন্য মিলারদের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, পুনঃবরাদ্দের নামে প্রতি টন চাল থেকে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এ সব অর্থ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজে এবং বিভিন্ন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
বাংলাদেশ অটো, মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি এটিএম আমিনুল হক বলেন, ‘‘আমরা যে অভিযোগ দিয়েছি, সেখানে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়নি। তদন্ত করলে তারা জানতে পারবে।’’ একই কথা জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছাইদুর রহমানও।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল কাবির খান বলেন, ‘‘সচিব স্যারের কিছু নির্দেশনা ছিল। সেই নির্দেশনাগুলো জানানোর জন্য তাদের সেদিন ডাকা হয়েছিল। আমি জুম মিটিংয়ে ছিলাম। তাই তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। তারা আসার পর তাদের চা দিতে দেরি হওয়ায় তারা উত্তেজিত হয়। ডেকে নিয়ে এসে বসিয়ে রাখা হয়েছে, এখনো চা নাস্তা দিচ্ছে না, এরকম ঘটনা।’’
তার বিরুদ্ধে মিলারদের অনিয়ম এবং ঘুষ দাবির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই বিষয়টি নিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত হচ্ছে। ডিসি অফিস থেকে তদন্ত হচ্ছে।’’ তবে তাদের এমন অভিযোগ দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিম বলেন, ‘‘অভিযোগ তদন্তে ডিসি স্যার একটি কমিটি গঠন করে দিতে বলেছেন। বিভিন্ন বিভাগ থেকে তিনজন কর্মকর্তাকে নিয়ে কমিটি করা হবে। কমিটি এটি তদন্ত করবে।’’
তদন্ত কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা/এনাম/বকুল