আলীকদমে ফসল চুরিকে কেন্দ্র করে হামলা, আহত ১৮
বান্দরবান প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
হামলায় আহতদের মধ্যে দুই ব্যক্তি।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ম্রো জনগোষ্ঠীর সৃজিত বাগান থেকে ফসল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ও সেটেলারদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে আলীকদম উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের জানালী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- ডাংয়া ম্রো (৫২), অমর ত্রিপুরা (৫০), প্রেকিক্য ম্রো (২৭), অংসং ম্রো (৩০), কটঙং ম্রো (৫০), ঙানওয়াই ম্রো (২৭), লাংছিং ম্রো (৩০) ও মেনরু ম্রো (৪০)। আহত সবাই আলীকদম উপজেলার জানালী পাড়ার বাসিন্দা।
আহতরা জানান, জানালী পাড়ার একটি কলা বাগান থেকে কলা চুরির সময় নয়াপাড়া এলাকার রোহিঙ্গা বাসিন্দা জাফর আলমকে (৪৫) আটক করেন গ্রামবাসী। পরে তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালিয়ে জাফর আলমকে ছিনিয়ে নেয়। সেসময় দুইজন গুরুতর আহত হন।
ডাংয়া ম্রো ও অমর ত্রিপুরাসহ গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, জাফর আলম যিনি এলাকায় ‘বাইট্টা ডাকাত জাফর’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে জানালী পাড়ার ম্রোদের কলা, আনারস, হলুদসহ বিভিন্ন বাগানের ফসল ও গৃহপালিত পশু চুরি করে আসছে। এ বিষয়ে নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গ্রামবাসী আরো জানান, একই দিন সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ জানানোর পর বাড়ি ফেরার পথে নয়াপাড়া কবরস্থান এলাকায় রোহিঙ্গা ও সেটেলারদের প্রায় ৪০ জনের একটি দল ফের গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। সেসময় টমটমে থাকা ১৮ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর।
আহত প্রেকিক্য ম্রো ও ঙানওয়াই ম্রো বলেন, “সকালে কলা চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। বরং পুলিশ সন্ধ্যায় আমাদের থানায় যেতে বলে। থানায় গিয়ে ফেরার পথে দ্বিতীয় দফায় আমাদের ওপর আবার হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, “জানালী পাড়া এলাকায় ম্রোদের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। আহতদের আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
আলিকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. হাসান জানান, গতকাল রাতের ঘটনায় আহত পাঁচ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তারমধ্য গুরুতর আহত তিনজনকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন শাহ বলেন, “এই হামলায় অভিযুক্ত আসামি জাফর আলমকে গত দুদিন আগেও একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত থেকে জামিন নিয়ে ফিরেই জানালী পাড়ায় ম্রোদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় ১৮ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর বলেও জানা গেছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।”
ঢাকা/চাইমং/এস