আচরণবিধি লঙ্ঘন: সারজিসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সারজিস আলম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ (পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) আসনের ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটের মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের বিরুদ্ধেও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একই দিনে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও এই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়। জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান নোটিশ দেওয়ার বিষয় জানিয়েছেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, সারজিস আলম গত ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে নির্বাচনি জনসভায় নিজ দলীয় প্রধান ব্যতীত অন্য দলীয় প্রধানের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে ব্যানার, বিলবোর্ড ও তোরণ স্থাপন করেন, যা আচরণবিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি তিনটি তোরণ নির্মাণ করেন। একইসঙ্গে ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল না করে নির্বাচনি প্রচার চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে, যা আচরণবিধির পরিপন্থি।
অপরদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, গত ২৩ জানুয়ারি বিকাল থেকে পঞ্চগড় পৌর এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তার কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে অবৈধ তোরণ ও ফেস্টুন স্থাপনের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে পৌরসভার সহযোগিতায় দুটি তোরণ অপসারণ করা হলেও করতোয়া ব্রিজ এলাকায় স্থাপিত অনুমোদিত আকারের বাইরে বড় আকৃতির ফেস্টুন অপসারণে তার কর্মীরা বাধা দেন এবং অসৌজন্যতামূলক আচরণ করেন।
এছাড়া দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েত এবং সরকারি গণভোটের প্রচারণা ব্যানার ছেঁড়ার হুমকির অভিযোগও আনা হয়েছে, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল না করে নির্বাচনি প্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
নোটিশে উভয় প্রার্থীকে নির্বাচনি আচরণবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা ভঙ্গের দায়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা/নাঈম/বকুল