ঢাকা     বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের জলমহাল সভাপতির দখলে

রুমন চক্রবর্তী, কি‌শোরগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৩, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬  
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের জলমহাল সভাপতির দখলে

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বিলমাসকা জলমহাল।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে। উপজেলা বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে একই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের ইজারা নেওয়া জলমহাল দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, মামলা এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী নেতা।

আরো পড়ুন:

স্থানীয় সূত্র জানায়, অষ্টগ্রাম উপজেলার ৪০৮ একর আয়তনের বিলমাসকা জলমহালটি গত বছরের নভেম্বর ৫০ লাখ ১৩ হাজার টাকায় সরকারের কাছ থেকে ইজারা (খাস আদায়) নেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শাহীন। ইজারা পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ ও তার অনুসারীরা জলমহালটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপিতে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। গত ৬ জানুয়ারি দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রদল নেতা তিতুমিরসহ কয়েকজন আহত হন এবং থানায় মামলা দায়ের হয়। এরপর থেকেই এলাকায় এসব নিয়ে উত্তেজনা চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, উপজেলা সভাপতি গায়ের জোরে অন্য নেতার ইজারা নেওয়া জলমহাল দখল করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে-এটাই স্বাভাবিক। মানুষ এখন বিএনপিকে নিয়ে হাসাহাসি করছে।

অষ্টগ্রামের সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় জানায়, বিলমাসকা জলমহালটি ১৪৩০ থেকে ১৪৩৬ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পূর্ব শেখেরহাট মৎসজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. রিপন মিয়ার নামে বছরপ্রতি ৮৫ লাখ টাকায় ইজারা ছিল। আগের ইজারাদার ১৪৩২ বঙ্গাব্দের ইজারার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর ইজারা বাতিল করা হয়। এরপর গত বছরের নভেম্বর মাসে বাংলা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ৫০ লাখ ১৩ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে জলমহালটি ইজারা (খাস আদায়) পান বিএনপি নেতা এসএম শাহীন।

অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শাহীন অভিযোগ করেন, ‍“জলমহাল ইজারা নেওয়ায় উপজেলা বিএনপি সভাপতি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। তার বাড়ি জলমহালের কাছাকাছি হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে সেখানে যেতে দিচ্ছেন না। কয়েকদিন পর পর লাখ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হচ্ছে, অথচ আমি কিছুই পাচ্ছি না। প্রশাসনের কাছে বারবার গিয়েও প্রতিকার মিলছে না। সামনে নির্বাচন, তাই দলের শীর্ষ নেতারাও নির্বিকার ভূমিকা পালন করছেন।”

তিনি জানান, গত ৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে দখলদার উচ্ছেদের আবেদন করা হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, “প্রশাসন গোপনে ষড়যন্ত্র করে অবৈধভাবে জলমহালটি ইজারা দিয়েছে। আগের ইজারাদারের কাছ থেকে আমরা আগেই মোটা অঙ্কের টাকায় জলমহাল নিয়েছি। সেখানে প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে আমাদের। বিষয়টি নিয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি। সেখানে আমাদেরই বৈধ অধিকার রয়েছে।”

অষ্টগ্রামের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল আহাদ বলেন, “এই জলমহালটি যে এসএম শাহীন ইজারা পেয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় এ মর্মে মাইকিং করা হয়েছে। ইজারার শর্ত অনুযায়ী জলমহালের দখল নিজ দায়িত্বে বুঝে নিতে হয়।”

অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিলভিয়া সিন্ধা জানান, বৈধ ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় জলমহালটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারার শর্ত অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের দখল ইজারাদারকেই (শাহীন) নিশ্চিত করতে হবে। আমরা তাকে আইনগত সহযোগিতা দেব।”

ঢাকা/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়