কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে সাত প্রার্থী, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বিএনপি-জামায়াতের
রুমন চক্রবর্তী, কিশোরগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম
কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী বসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. জেহাদ খান।
উজান-ভাটির মেলবন্ধন করিমগঞ্জ-তাড়াইল উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৩ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাতজন প্রার্থী। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে। বাড়ছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি। ভোটারদের ভাষ্য, এখানে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. জেহাদ খান সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের শ্যালক। ছয়বারের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর সঙ্গেও তার রয়েছে পারিবারিক বন্ধন। অন্যপ্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- স্বতন্ত্র একেএম আলমগীর, গণতন্ত্র পার্টির দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলমগীর হোসাইন।
ড. এম ওসমান ফারুক ভাবমূর্তি, দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্যবদ্ধ দলীয় প্রচারের কারণে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। জোরেশোরেই তার পক্ষে চলছে নির্বাচনি প্রচার। তার পথসভাগুলো অনেক জায়গায় জনসভায় রূপ নিচ্ছে।
বিএনপি নেতারা জানান, মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে যে বিভক্তি ছিল, তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। বিশেষ করে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ড. এম ওসমান ফারুককে সমর্থন দেওয়ায় দলীয় ঐক্য দৃশ্যমান হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. জেহাদ খান পেশায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। গত ছয় মাস ধরে তিনি এলাকায় সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ করছেন। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ফলে এলাকায় তাঁর ‘যথেষ্ট’ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রচার কৌশলও ভিন্ন ধরণের। বিএনপি হাঁকডাক ও সভা-সমাবেশ করে ভোট চাইছে। জামায়াতের প্রচার অনেকটাই নীরব ও ভিন্ন আঙ্গিকে। তারা যাচ্ছেন ভোটারদের ঘরে ঘরে। তাদের নারী কর্মীদের সক্রিয়তাও চোখে পড়ার মতো। ভোট আদায়ের কৌশলে কোনো প্রার্থী এগিয়ে তা বোঝা না গেলেও এ দুই প্রার্থীর মধ্যে যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে-এটা প্রায় নিশ্চিত এমনটি মনে করছেন ভোটাররা।
পূর্বের হিসেব অনুযায়ী, বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগের সমর্থনে আসনটি জাতীয় পার্টির প্রভাববলয়ের মধ্যে ছিল। দলটির নেতা মুজিবুল হক চুন্নু টানা ছয়বার এখান থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন। এবার আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ভোটের হিসাব অনেকটাই জটিল। জাতীয় পার্টি থেকে আবু বকর সিদ্দিক প্রার্থী হলেও মাঠে তিনি সক্রিয় নন। তাই পাল্টাতে পারে হিসেব-নিকেশ।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও সাবেক সাংসদ সদস্য চুন্নুর সঙ্গে ঘনিষ্টতার সুবাদে কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন জামায়াত প্রার্থী জেহাদ খান। এ কারণে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির একটি অংশের নীরব ভোট তার বাক্সে যেতে পারে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ জোটভুক্ত দলগুলোও তার পক্ষে মাঠে কাজ করছে।
জয়ের ব্যপারে আশাবাদী জামায়াতের প্রার্থী ডা. জেহাদ খান বলেন, “মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছে। জোটের শক্তি ও সাধারণ মানুষের সমর্থন মিলিয়ে আমার অবস্থান প্রতিদিন শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা প্রতিটি ঘরে ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সব মিলিয়ে আমিও এখানে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। আশা করি, নির্বাচনে জয় লাভ করলে,মানুষের আশা-প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হব।”
বিএনপি প্রার্থী ড. এম ওসমান ফারুক বলেন, “মানুষ যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবে এটা নিশ্চিত। জয়ের ব্যাপারে আমি খুবই আশাবাদী। আমি এর আগে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন এলাকার মানুষের কতটুকু প্রত্যাশা পূরণ করেছি, আশাকরি এখানকার মানুষ তা ভুলবেন না। এ নির্বাচন ঘিরে সভা-সমাবেশে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ এলাকার উন্নয়নে আমার অগ্রাধিকারে থাকবে।”
ঢাকা/মাসুদ