এক্স আইডি হ্যাক নিয়ে একটি দল ব্যবসা করছে: জামায়াত আমির
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মঙ্গলবার সকালে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমার এক্স আইডি হ্যাক করে সেখান থেকে অত্যন্ত নোংরা ম্যাসেজ দেওয়া হয়েছে। আমাদের সাইবার টিম সেটা দ্রুত রিকভারি করে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পেয়েও গেছে, কোন জায়গা থেকে কারা এটি করেছে। আশ্চর্যের বিষয়, সবকিছু স্পষ্ট হওয়ার পরেও একটি রাজনৈতিক সংগঠন এটা নিয়ে এখন ব্যবসা করছে।”
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, “মায়ের গর্ভে থেকে আমরা বড় হয়েছি, মায়ের দুধ পান করেছি। মায়ের কাছে লালিত-পালিত হয়েছি। মায়ের আদর ও ভালোবাসায় পড়ালেখা করেছি। মায়ের কোনো ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এরপরও আমাদের কৃতজ্ঞচিত্তে তা পরিশোধ করার চেষ্টা করতে হবে।”
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসীরা আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছিল, সেদিনই দেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। মানুষ সবকিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু তার মায়ের অপমান সহ্য করতে পারে না।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশে মা-বোন ও সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। আগে তো আমার নিরাপত্তা পরে তো উন্নতি। দুটোই আমার দরকার, কিন্তু কোনটাই আমাদের নাই।”
যুবসমাবেশ উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিপুল সংখ্যাক যুবক তারা জবলেস, তারা বেকার। তারা রাস্তায় নেমে বলেনি, আমাদের বেকারভাতা দেন। তারা সেদিন বলেছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা চাই, মেধার ওপর সুবিচার করা হোক। কোনো মামু-খালুর লাল টেলিফোনে, কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে আমার কপাল যেন চোরাবালিতে হারিয়ে না যায়, আমার কপাল আমাকে দিতে হবে। আমার যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী আমার কাজ আমার হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা কথা দিচ্ছি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তোমাদের হাতকে বাংলা গড়ার কারিগর করব। তোমাদের হাতে বেকার ভাতা নয়, তোমাদের দাবি অনুযায়ী মর্যাদার সঙ্গে সংগতি রেখে কাজ তুলে দেব। বাংলাদেশ তোমরাই গড়বে, তোমরাই চালাবে; এই দেশটা তোমাদের হাতে তুলে দিতে চাই।”
জামায়াতের আমির বলেন, “দুটো নির্বাচনকে সামনে রেখে আজকের এ সমাবেশ। এ জেলাটি নানা বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এ জেলার মানুষ সমাগ্রতভাবে ধর্মপ্রাণ। তারা অন্যান্য ধর্মের সঙ্গেও চমৎকার সর্ম্পক রক্ষা করে চলেন। এটি ধর্মের সৌন্দর্য্য। আমরা দেশটাকে সব ধর্ম নিয়ে ফুলের বাগানের মতো সাজাব। আমরা আমাদের প্রিয় জাতি ভাগ বা টুকরা করতে কাউকে সুযোগ দেব না। অতীতের কাসুন্দি শেষ। সেগুলো এখন জনগণ শুনতে চায় না। ওগুলো শুনিয়ে ঘুম পারিয়ে রেখে জনগণের কিসমত যারা হায়জ্যাক করেছে, লুণ্ঠন করেছে তাদের জায়গা বাংলাদেশে আর হবে না। চব্বিশের যুব সমাজ অতীতের পঁচা রাজনীতির জন্য বুক চিতিয়ে লড়াই করেনি, তারা পরিবর্তন চেয়েছে। ১৩ তারিখ থেকে সেই পরিবর্তনের সূচনা হবে।”
তিনি বলেন, “কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্প কলখানার জেলা না, এ জেলা কৃষিভিত্তিক। আমরা কথা দিচ্ছি, কৃষিকে আমরা শিল্পতে পরিণত করব। বলবেন, এত টাকা কোথায় পাবেন? যারা আমাদের দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছে, ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা আদায় করে আনব। ওই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আমির অধ্যাপক রমজান আলী।
ঢাকা/রুমন/মাসুদ