চাঁদাবাজির সব দপ্তর একটি দলের নিয়ন্ত্রণে: জামায়াত আমির
নাটোর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর একটি দল চাঁদাবাজির সব দপ্তর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে দেশের মানুষ আর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুটপাট দেখতে চায় না। ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ তাদের লাল কার্ড দেখাবে।”
তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে আল্লাহ জামায়াতকে ক্ষমতায় নিলে সবার জন্য ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। কারো দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। একজন সাধারণ নাগরিক দুর্নীতি, লুটপাট করলে যেমন বিচারের আওতায় আনা হবে। তেমনি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি, লুটপাট করলেও বিচারের আওতায় আনা হবে।”
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নাটোরে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মদিনার আদলে দেশ গঠন করে জাতিকে উপহার দেওয়া হবে। দিন-রাত যেকোনো সময় নারী পথে বের হলে তাকে অসম্মানিত হতে হবে না। কেউ নারীকে অসম্মান করার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
তিনি বলেন, “যুবদের আমরা ‘বেকার ভাতা’ দিতে চাই না। বেকারদের সুশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম করতে চাই। তারা যেন দেশে-বিদেশে সব জায়গায় কাজ পায়, এমন শিক্ষা দিতে চাই। গর্ব করে যেন বলতে পারে, আমিই বাংলাদেশ। আমাদের যুবকরা সাহসী, উদ্যমী। প্রয়োজন শুধু সুশিক্ষা। আমরা সেটাই তাদের দিতে চাই।”
জামায়াত আমির বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ৫ বছর পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সকল মানুষের সুচিকিৎসার দায়িত্ব নেবে সরকার। এসব করতে বেশি টাকা লাগবে না। দেশে দুর্নীতি, ব্যাংক লুট না হলে সব করা যাবে; টাকার সমস্যা হবে না।”
শফিকুর রহমান বলেন, “একটি পক্ষ চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। সবাই আমরা ভাই-ভাই, কেউ আমাদের বিরোধী নয়। এখন পে স্কেলের জন্য আন্দোলন করতে হয়। এটা আর করতে হবে না। ক্ষমতায় গেলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে। যার যা প্রাপ্য সঠিকভাবে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করলে হবে না। চোর চুরি করলে আগে দেখতে হবে, তার মৌলিক চাহিদা পুরণের ব্যবস্থা আছে কি না। আগে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। খাবার না দিয়ে চোরের বিচার করতে বসলে হবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের খাবারের ব্যবস্থা করা।”
তিনি বলেন, “কিছু হলেই আমরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাই। এটা যেন করতে না হয়—সেজন্য জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নাটোরসহ ৬৪ জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করবে। প্রয়োজন মতো বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।”
জামায়াতের এই নেতা বলেন, “বাংলাদেশে আমরা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-মুসলিম সবাই একই বাগানের একেকটি ফুল। কাউকে আমরা বঞ্চিত করতে চাই না। বঞ্চিতের সুযোগও কাউকে দেওয়া হবে না। দুর্নীতি, লুটপাট না থাকলে এই দেশ রকেটের গতিতে এগিয়ে যাবে।”
ঢাকা/আরিফুল/রাজীব