ফেনীতে ভোটের দীর্ঘ লাইনে মানুষের উচ্ছ্বাস
ফেনী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ফেনীতে ভোট দিতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন।
জীবনে প্রথমবার ভোট দিলাম। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। প্রথমবার ভোট দিতে পেরে এমন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে কলেজ শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈম। তিনি এমন সুশৃঙ্খল ভোটের পরিবেশের জন্যই তরুণরা জুলাইয়ে জীবন দিয়েছিল। আশা করছি ভবিষ্যতে আর কারও ভোটাধিকার রুদ্ধ হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ফেনীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন ভোটাররা। তাদের উপস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘ সময় পর ভোট দিতে পেরে অনেকে ঈদের আনন্দের সঙ্গে তুলনা করছেন অনুভূতিটিকে। কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক উপস্থিতি দেখা গেছে।
ফেনী বিএড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবার ভোটের আমেজ উপভোগ করলাম। সকালেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে এসেছি। অতীতের মতো ভোট দিতে না পারার তিক্ত অভিজ্ঞতা এবার হয়নি। লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।’’
ফেনী আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল ভূঞা বলেন, ‘‘১৭ বছরের আক্ষেপ শেষ হয়েছে। সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। আশা করি শেষ পর্যন্ত এভাবেই সুষ্ঠু ভোট হবে। আমরা সাধারণ মানুষ কোনো সংঘাত-সহিংসতা চাই না। সবাই সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকলে নতুন ইতিহাস গড়া সম্ভব।’’
মনিকা নামে এক ভোটার জানান, সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা শেষে জীবনে প্রথমবার ভোট দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘এটা ভিন্নরকম অনুভূতি। জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে এমন প্রতিনিধিকেই আমরা সংসদে চাই।’’
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে ৭ জন, ফেনী-২ আসনে ১১ জন এবং ফেনী-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, তিন আসনে মোট ভোটার ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৭ জন, নারী ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।
জেলায় মোট ৪২৮টি ভোটকেন্দ্র ও ২ হাজার ৪৩৯টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে ১২৫টি কেন্দ্র সাধারণ, ২৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫৩টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নির্বাচনি মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া আনসার ভিডিপির ৫ হাজার ৫৬৪ জন, র্যাবের ৭২ জন, বিজিবির ১৮ প্লাটুন, সেনাবাহিনীর ৯ প্লাটুন, পুলিশের ৪৫টি মোবাইল টিম ও ছয়টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন মোট ৭ হাজার ৭৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
ঢাকা/সাহাব/বকুল