কুষ্টিয়া-১ আসনে ছয় প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট নেই
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কুষ্টিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের ১৩৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। তবে আসনটির কেন্দ্রগুলোতে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট দেখা যায়নি।
এ দিন ভোটের প্রথম প্রহরে পুরুষ ভোটারদের ভিড় ছিল। সকাল ৯টার পর থেকে নারী ভোটারদেরও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। মজনু রহমান নামের এক ভোটার জানান, দীর্ঘদিন পর নির্ভয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শহিদ রফিক নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টায় ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। নির্বাচনের পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী বেলাল উদ্দিন মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দুপুরে মানিকদিয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।
মাঠপর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩৫টি কেন্দ্রের অধিকাংশতেই অন্য ছয় প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মানিকদিয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন, এই কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৪০ জন ভোটার রয়েছেন। সকাল থেকে পরিবেশ সুন্দর। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এখানে বিএনপি এবং জামায়াত প্রার্থীর ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর এজেন্ট উপস্থিত নেই।
উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও অনিন্দ্য গুহ জানিয়েছেন, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।
আসনটিতে মোট ৮ জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হচ্ছে ধানের শীষ প্রতীকের রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বেলাল উদ্দিন এবং মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লার মধ্যে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টও অনেক কেন্দ্রে দেখা যায়নি।
জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শাহরিয়ার জামিলের দাবি, নির্বাচনি পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় এবং স্থানীয় প্রভাবশালী প্রার্থীদের চাপের কারণে তাঁরা সব কেন্দ্রে এজেন্ট নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তিনি এখনো নির্বাচনের মাঠে টিকে আছেন।
বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লার দাবি, যেহেতু তিনি সরাসরি বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাই তাঁর নির্বাচনি এজেন্টরাও মূলত বিএনপি ঘরানার। এই রাজনৈতিক জটিলতা এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কারণে সব কেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বৃহৎ উপজেলা দৌলতপুরকে নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-১ আসনে রয়েছে ১৪টি ইউনিয়ন। একদিকে সীমান্ত, অন্যদিকে পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে আসনটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩ হাজার ৪৭০ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ৩ জন। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ ভোটার রয়েছেন ৬২ হাজার ৯১৯ জন। মোট ১৩৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৭টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।
ঢাকা/কাঞ্চন/বকুল