ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৯ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

প্রথম ভোটের উচ্ছ্বাস, শেষ ভোটের আবেগ

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৬:০৩, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রথম ভোটের উচ্ছ্বাস, শেষ ভোটের আবেগ

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ঢাকা-৯ আসন ঘুরে দেখা গেছে, কেউ দিয়েছেন জীবনের প্রথম ভোট। কেউবা আবার দিয়েছেন জীবনের ‘শেষ’ ভোট।

এবারের নির্বাচনে তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকার প্রায় সব কটি আসনেই ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি। ভোট নিয়ে সিনিয়র সিটিজেনদের আবেগ খুব একটা চোখে পড়েনি। তবে কিছু ব্যতিক্রমও ছিল। তেমনি একজন খিলগাঁওয়ের জামিরুন নেছা। 

আরো পড়ুন:

১৯২৭ সালে জন্ম নেয়া জামিরুন ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর থেকে ক্ষমতার পালা বদল দেখে এসেছেন। বয়স এখন ৯৯। নাতির ঘরের সন্তানের জোরাজুরিতে খিলগাঁও মডেল কলেজে আজ জামিরুন ভোট দিয়েছেন। রিকশা থেকে নেমে ধীর পায়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন জামিরুন। একাডেমি ভবনের দুই তলায় সিঁড়ি দিয়ে উঠে বেশ স্বাচ্ছন্দে ভোট দিয়ে আসেন। আরো একবার ভোট দিতে পারবেন কিনা সেই নিশ্চয়তা নেই! 
অসুস্থ শরীর নিয়ে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেছেন, “এতো বছর পর ভোট তো দিলাম। আল্লাহ দেওয়াই লো। ভালো লাগবো কেমনে? আমি তো অসুস্থ। নাতিনের মেয়ে নিয়ে আসছে। বলছে, যাওয়া লাগবে, যাওয়া লাগবে।”

পাশে থেকে নাতির মেয়ে জুবায়দা হক যোগ করেন, “পরের বছর বড় মা ভোট দিতে পারবেন কিনা কে জানে? এখন আছেন। আনন্দের বিষয় এটাই।”

একই কেন্দ্রের ভোটার ছিলেন নুসরাত জাহান ও কাসবী খান- দুই বান্ধবী। নুসরাত এখনো পড়াশোনা করছেন। কাসবী গৃহিনী। 

নিজেদের প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে নুসরাত প্রথমে বলেন, “আনন্দ উদ্দীপনা নিয়ে নিজের প্রথম ভোটটি দিতে পেরেছি। কোনো সমস্যাই হয়নি। নিজের ভোট নিজে দিতে পারার আনন্দটাই প্রথম অনুভব করতে পারছি।”

কাসবী খান পাশ থেকে যোগ করেন, “কোনো স্বেচ্ছাচারিতা নেই। ভোটার স্লিপ নিলাম লাইনে দাঁড়ালাম, ব্যালট নিলাম। নিজের ভোট নিজে দিলাম। প্রথম ভোটের অনুভূতি আসলেও বিভিন্ন রকম।”

তিন মাসের বাচ্চা রিমাকে নিয়ে ভোট দিয়েছেন প্রথমবার মা হওয়া সুমাইয়া। তার উদ্দীপনাও ছিল দারুণ- “আমি ২০২৪ সালে ভোট দিতে চেয়েছিলাম। পারিনি। এবার দিলাম। আমার মেয়েকে নিয়ে দিলাম। খুব আনন্দ লাগছে।”

মাদারটেক আব্দুল আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিয়েছেন ইষ্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জারিন হোসেন। নির্বাচনের ছবির ট্রেন্ড আঙুলে কালির দাগ দেখিয়ে জারিন বলেছেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনে একজন জয়ী হবেন, একজন পরাজিত। এটাই মেনে নেওয়া উচিৎ। নির্বাচনের পর যেই ক্ষমতায় আসুক, দেশে যেন শান্তি বজায় থাকে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেই আশাই করছি। বিগত বছরগুলোতে কী কী করা হয়েছে সেগুলো আমরা সবাই জানি। দেশ যেন দুর্নীতি কিংবা কোনো অপকর্মে লিপ্ত না হয় এবং কেউ জড়িয়ে গেলে যেন শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় এটাই প্রত্যাশা।”

মানিকনগর মডেল হাই স্কুলের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য জাকির হোসেন দাবি করেছেন, এই কেন্দ্রে ঠিকমতো পোলিং এজেন্টই দিতে পারেনি অনেক প্রার্থী। তাই ভোটাররা ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেকে এদিক-ওদিক ছুটেছে। প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল বেশ। 

গোড়ানের আলী আহমদ স্কুল এন্ড কলেজে দুপুরের পর থেকে ভোটার আসতে শুরু করেছে। ঢাকা স্টেডিয়ামের ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেছেন, “সকালে একটু ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ছিল। তাই বের হয়ে আসিনি। এখন রোদ পড়ছে। একটু কাজও ছিল। সেসব সেরে ভোট দিতে এসেছি।”
 
নন্দি পাড়ার নভেল্টি স্কুল এন্ড কলেজে ভোটার সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের একটু বেশি। দুপুর ৩টা পর্যন্ত এখানে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলেছে নিশ্চিত করেছেন প্রিজাইডিং অফিসার মো. মাসুদ রানা। 

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার প্রশ্নে গণভোটও হচ্ছে এদিন। এবার ভোটার রয়েছেন মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। 

 

ঢাকা/ইয়াসিন/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়