লালমনিরহাটের তিন আসনেই বিএনপির জয়
লালমনিরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
লালমনিরহাট-৩ আসনে জয়ী আসাদুল হাবিব দুলু, লালমনিরহাট-২ আসনে বিজয়ী রোকন উদ্দিন বাবুল ও লালমনিরহাট-১ আসনে হয়ী ব্যারিস্টার রাজীবের জয়।
লালমনিরহাটের তিনটি সংসদীয় আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ফল ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন নিরঙ্কুশ জয়ে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলাফল ঘোষণার পরপরই লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামের অলিগলিতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
লালমনিরহাট-১: হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ব্যারিস্টার রাজীবের জয়
হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-১ আসনে ১৩৭টি কেন্দ্রের ফলাফল শেষে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির তরুণ প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৭৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৮৯ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ৫৬১ জন। তরুণ এই প্রার্থীর বিজয়ে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা এলাকায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে।
লালমনিরহাট-২: বিজয়ী রোকন উদ্দিন বাবুল
আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনে ১৫৫টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৩ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৬ ভোট।
জয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই এই দুই উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে রাখেন। স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ জনপদের ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
লালমনিরহাট-৩: রেকর্ড ব্যবধানে অধ্যক্ষ দুলুর জয়
লালমনিরহাট সদর আসনে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। ৯৪টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ১০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৮৭ ভোট।
সদর আসনে মোট ৩ রাখ ৭ হাজার ৯৭০ জন ভোটারের মধ্যে অধ্যক্ষ দুলুর বিশাল ব্যবধানে জয়কে জেলার রাজনীতির ইতিহাসে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রায় ৮৫ হাজার ভোটের এই ব্যবধান সদর আসনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
ফলাফল ঘোষণার পর রাত থেকেই লালমনিরহাটের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিজয় উল্লাসে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা জানান, এটি মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিজয়।
তারা জানান, এই জয় লালমনিরহাটের নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের। একই সঙ্গে তারা জেলার সার্বিক উন্নয়নে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ঢাকা/সিপন/রাসেল