ঢাকা     রোববার   ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

নারায়ণগঞ্জ-৫: পুনরায় ভোট গণনার দাবি সিরাজুল মামুনের

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৭, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১০:৩৮, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ-৫: পুনরায় ভোট গণনার দাবি সিরাজুল মামুনের

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন এবিএম সিরাজুল মামুন (মাঝে)।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের পরাজিত প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর-বন্দর আসনে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিরাজুল মামুন বলেন, “নির্বাচনে জিতলে ফলাফল মেনে নেওয়া, আর পরাজিত হলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার সংস্কৃতিতে আমি বিশ্বাস করি না। এ আসনে ভোটারদের ব্যথা ও যন্ত্রণা রয়েছে। তারা ফলাফলটি মেনে নিতে পারছেন না। তাদের যন্ত্রণা হচ্ছে- ভোট দিলাম কাকে, আর নির্বাচিত হয়েছেন কে? ভোটারদের সান্তনা দিতে আমি এসেছি।”

আরো পড়ুন:

আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী ছিলেন না বলেও জানান তিনি। পরে দলের সিদ্ধান্তে জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে প্রার্থী হন এবং দশ দলীয় জোটের সমর্থন পান উল্লেখ করেন এই প্রার্থী।

ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিরাজুল মামুন বলেন, “রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। ১১টার দিকে রিটার্নিং অফিসার বারো কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করলেন। মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল- উনি ধারবাহিকভাবে বাকি কেন্দ্রগুলোরও ফলাফল ঘোষণা করবেন। কেননা, এইটা তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। উনি ১২টা কেন্দ্রের ফলাফল দেওয়ার পরে আর আসলেন না। ২টা পর্যন্ত আমাদের লোকরা অপেক্ষা করল, কিন্তু উনি আর আসলেন না। এইটা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক লেগেছে।”

কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে ৬১টিতে এগিয়ে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “কী কারণে ১২টা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর তিনি আর আসলেন না, এইটা আমার বোধগম্য নয়।”

তিনি দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা, ফলাফল গণনার সময় এজেন্টদের কক্ষের বাইরে রাখা, সিসিটিভি ফুটেজের বাইরে ভোটগণনা করা, বাতিল ভোটকে ধানের শীষের হিসেবে গণনা করা ও রেজাল্ট না লিখেই পোলিং এজেন্টদের থেকে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর সংগ্রহ করার অভিযোগও তোলেন এই প্রার্থী।

সিরাজুল মামুন বলেন, “এই ফলাফলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মানুষের রায়ের প্রতিফলন ঘটে নাই। এ জন্য আমি পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানাচ্ছি।”

ভোটের আগে রাতে ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা বিলির উদ্দেশ্যে টাকা বহনের অভিযোগে সিরাজুল মামুনের প্রধান নির্বাহী এজেন্ট হাফেজ মো. কবির হোসেনকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর ৪(১) ও ২৭ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাকে কেবল নিজের ভোট দেওয়া ছাড়া নির্বাচনি অন্য কোনো দায়িত্ব পালনেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির। তিনি খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি।

এ জরিমানা ‘ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন সিরাজুল মামুন। সংবাদ সম্মেলনে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান এজেন্ট তো বিভিন্ন কেন্দ্রে যাবেন এবং পোলিং কাজে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের কাজে সহযোগিতা করবেন এইটাই স্বাভাবিক ছিল। এজেন্টদের খরচ দেওয়া আর (ভোটারদের) টাকা দেওয়া না। সেখানে যে বিচারটা করা হয়েছে তা অন্যায় ছিল, ইনজাস্টিস ছিল।”

ঘটনার রাতেই এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ‘সদুত্তর’ পাননি বলেও জানান পরাজিত এ প্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল মামুনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির মাওলানা আবদুল জব্বার, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শওকত আলী, খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

ফল পুনর্গণনার আবেদন পেয়েছেন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, “উনি একটা লিখিত দিয়েছেন, যা নির্বাচন কমিশনে ফরওয়ার্ড করেছি। এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেবে নির্বাচন কমিশন।”

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পরদিন বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে বিজয়ী ঘোষণা করেন তিনি। ফলাফল অনুযায়ী, আসনটিতে আবুল কালাম পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট।   সিরাজুল মামুন পান ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট। এই আসনে ভোট দেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ জন।

ঢাকা/অনিক/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়