বাগেরহাটে বিএনপিকর্মী হত্যা: মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার ৩
বাগেরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
আরিফুল ইসলাম মাসুম হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় হামলায় বিএনপি কর্মী ও মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম মাসুম হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জনকে আসামি করে শরণখোলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামিনুল হক জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, উপজেলার শরণখোলা গ্রামের শাহজাহান বয়াতির ছেলে খলিল বয়াতি (৩২), কবির বয়াতির ছেলে শাহাজালাল বয়াতি (৩৫) এবং তানজের আলী হাওলাদার (৬৫)।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, মাসুম তার শশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা জামায়াতের কর্মীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। তার ডাকচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি করেন বিএনপি নেতারা।
বিএনপির অভিযোগ কাল্পনিক দাবি করে শরণখোলা প্রেস ক্লাবে সোমবার (২ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জামায়াতের ওপর ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছে।
মামলা এজাহারের বরাত দিয়ে ওসি সামিনুল হক বলেন, নির্বাচনের পরের দিন স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনায় ভিডিও ধারণ করেন মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম মাসুম। ওই ভিডিও সামাজিক য়োগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। এরই জেরে রাতে তার ওপর হামলা করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরিফুল ইসলাম মাসুম মারা যায়।
ঢাকা/আমিনুল/বকুল